২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অক্সফোর্ড ইউনিয়নে কাতারের প্রধানমন্ত্রী: শান্তি কোনো বিলাসিতা নয়

Published: November 8, 2026, 2:05 pm

একটি বিভক্ত বিশ্বে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর ও সমৃদ্ধ ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোকে আরও বড় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল-থানী। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিয়নে আয়োজিত ‘একটি বিভক্ত বিশ্বে সমৃদ্ধি: ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসমূহ এবং বৈশ্বিক প্রভাবের মানচিত্র পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক বিশেষ বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

‘সমৃদ্ধ রাষ্ট্র’ ধারণার প্রস্তাব

বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ছোট অথচ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রচলিত উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের পুরোনো বিভাজন বর্তমান আন্তর্জাতিক অর্জনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর পরিবর্তে তিনি ‘সমৃদ্ধ রাষ্ট্র’ ধারণার নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করেন। যেসব দেশ তাদের মানবসম্পদ, আধুনিক অবকাঠামো ও টেকসই অর্থনৈতিক মডেলে বিনিয়োগ করে সফল হয়েছে, ছোট আকৃতিকে সুবিধায় রূপান্তর করেছে এবং স্থিতিশীল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে—তাদের কেবল নিজেদের স্বার্থ দেখলেই চলবে না; বরং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা

১৯৪৫ পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান জানান, শান্তি কেবল সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না। এটি আইন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও উন্মুক্ত বাজারের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১২০টির বেশি দেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে যুক্ত হওয়ায় ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলো আধিপত্যবাদ থেকে সুরক্ষা পেয়েছে এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

তবে অর্থনৈতিক সুযোগ বিশ্বায়ন হলেও শান্তি ও নিরাপত্তার মূল সিদ্ধান্তগুলো এখনও মুষ্টিমেয় শক্তির হাতে কুক্ষিগত বলে তিনি উল্লেখ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া ও সমুদ্রপথ হুমকির মুখে পড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা এই সংঘাতে যুক্ত নয়, তাদেরও এর খেসারত দিতে হচ্ছে।

মধ্যস্থতা ও সার্বিক স্থিতিশীলতা

কাতারের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ভবিষ্যৎ কেবল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে না; বরং বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক ও নিজস্ব সক্ষমতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। কাতার এই অবস্থান থেকেই দ্বন্দ্ব নিরসনে মধ্যস্থতার কূটনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কাতার ও মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবুও সংঘাতকে স্বাভাবিক নিয়ম না মেনে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষা করতে হবে।

উপসংহার

বক্তব্যের শেষভাগে কাতারের প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রগুলোর টেকসই উন্নয়নের প্রধান শর্ত। সংঘাত এড়াতে কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা কাজ করছেন এবং নিষ্ক্রিয় না থেকে বিশ্ববাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।