২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় ২৫০ যুগলের গণবিয়ে সম্পন্ন: ইউএইর মানবিক উদ্যোগ

Published: November 8, 2026, 1:06 pm

দীর্ঘদিন ধরে চলমান যুদ্ধ, ঘরবাড়ি ধ্বংস ও চরম বাস্তুচ্যুতির শিকার গাজার বাসিন্দাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগলের গণবিয়ে। গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার গাজা সিটির মেরিন ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ৫০০ বর-কনে অংশ নেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ‘অপারেশন শিভালরাস নাইট-৩’-এর অন্তর্ভুক্ত ‘থৌব আল ফারাহ-৩’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তাদের সঙ্গে ২৫০ কনের বিয়ে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন বর তাদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন। এর আওতায় খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী, আশ্রয় উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানস্থল সাজানো হয়েছিল উৎসবের আমেজে। কনেরা সাদা বিয়ের পোশাক ও ফুলের তোড়া নিয়ে উপস্থিত হন। অনেক বর স্যুটের সঙ্গে ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী কেফিয়াহ পরিধান করেন। সুসজ্জিত গাড়িতে চড়ে নবদম্পতিরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সংগীত ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে গাজাবাসীরা সাময়িক আনন্দ ভাগ করে নেন। তাদের সঙ্গে আনন্দে শামিল হন হাজারো স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা। বরদের অনেকেই পরেছিলেন কালো বা গাঢ় রঙের স্যুটের সঙ্গে ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যের প্রতীক কেফিয়াহ। পরে সংগীত ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হয় বিয়ের অনুষ্ঠান।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই গণবিয়ের জন্য ১১ হাজার ৬২২ জন আবেদন করেছিলেন। কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত লটারির জন্য ১ হাজার ৩৩৫ জনকে বেছে নেওয়া হয়, যার মধ্যে থেকে ২৫০ জন বর ও তাদের কনেদের নির্বাচিত করা হয়। যুদ্ধের কারণে আর্থিক অসচ্ছলতা ও আবাসন সংকটে আটকে থাকা অনেক তরুণ-তরুণীর জীবন নতুন করে শুরুর সুযোগ করে দিয়েছে এই আয়োজন। সেখান থেকে ২৫০ জন বরকে বেছে নেওয়া হয়।

নতুন জীবনের শুরুতে আবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন অনেক বর। জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের কাছে তাঁবুতে বসবাসকারী সাঈদ আল-নাজ্জার জানান, বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ায় তাদের এখনো তাঁবুতেই থাকতে হচ্ছে। আরেক বর মুহাম্মদ কুওয়াইদির বলেন, বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় আপাতত তাঁবুর জীবনই তাদের ভরসা। তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও এই বিয়েকে বেঁচে থাকার প্রত্যয় ও জীবনের জয়গান হিসেবে দেখছেন তারা। তাদের একজন সাঈদ আল-নাজ্জার জানান, ইসরাইলি হামলায় তাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে কোথায় থাকবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা তাঁবুতেই থাকবেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, বিশ্বের নজর অন্য সংকটের দিকে থাকলেও গাজাবাসীরা ইউএইর মানবিক সহায়তার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে। তিনি আরও বলেন, এই সহায়তা কেবল দুর্ভোগ লাঘব নয়, বরং মানুষের মুখে হাসি ও সুন্দর ভবিষ্যতের আশা জাগিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর গাজায় ‘অপারেশন শিভালরাস নাইট-৩’ শুরু করে ইউএই। সরকারি তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩৬ হাজার টনের বেশি সহায়তা সেখানে পৌঁছানো হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৫৪টি এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে দেইর আল-বালাহতে ৩০০টি যুগলের গণবিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৫৪ যুগল এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে দেইর আল-বালাহতে ৩০০ যুগলের গণবিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, দ্য ন্যাশনাল, রোয়া নিউজ ও গালফ নিউজ।