
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পুরো এলাকা। গত মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল নামে। অঝোরে ঝরতে থাকা চোখের জলে প্রিয় সহপাঠীকে শেষ বিদায় জানান তার বন্ধুরা।
জানাজায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এবং সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ মাইশার এই মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে ডালাস পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন মহাসড়কে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল মিনিবাস উল্টে শিক্ষার্থীদের ওপর আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও এক শিক্ষার্থী আহত হন। নিহত মাইশা মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে।
সহপাঠীর মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঘটনার পরপরই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে নিরাপদ যাতায়াতের দাবি জানান। তাদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, স্পিডব্রেকার স্থাপন এবং নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান। দীর্ঘ সময় অবরোধের ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। দীর্ঘকাল ধরে মহাসড়কটির এই অংশে যথাযথ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় চরম ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করে বলে স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে।
মাইশা মুশফিরাতের মৃত্যু একটি মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্নকেই কেবল কেড়ে নেয়নি, বরং মহাসড়ক পারাপারে নিরাপত্তার বিষয়টি ফের সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, কেবল সান্ত্বনা বা আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি। নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে এমন ট্র্যাজেডি ভবিষ্যতে আরও ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়।





