
ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সম্মিলিত একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের ফাঁকে আয়োজিত কাতার ইকোনমিক ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক যুদ্ধকে পুরো অঞ্চলের জন্য একটি স্পষ্ট ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
শেখ মোহাম্মদ আল-থানি বলেন, চলমান সংকটগুলো আমাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাগুলো নতুন করে পর্যালোচনার পথ তৈরি করেছে। এর প্রভাব কেবল নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ইরান প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলবে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও একই লক্ষ্য নিয়ে এগোবে—এমন একটি পারস্পরিক নিরাপত্তা কাঠামো ছাড়া এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় রাখা সম্ভব নয়। এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে কোনো দেশই অন্যের জন্য নিরাপত্তার হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি অঞ্চল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমরা সবাই এখন এই প্রয়োজনীয়তাটি উপলব্ধি করছি।’ কাতার এবং তার আঞ্চলিক মিত্ররা বর্তমানে একটি সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সাম্প্রতিক সংঘাত আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে সবাই মিলে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।
সংকট নিরসনে কাতার তার কূটনৈতিক তৎপরতা ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। শেখ মোহাম্মদ জোর দিয়ে বলেন, যোগাযোগের সকল চ্যানেল সচল রেখে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাওয়াই এখনকার মূল লক্ষ্য। যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনই সময় একটি কার্যকর আঞ্চলিক কাঠামোর বাস্তবায়ন শুরু করার।





