২১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের সরকার গঠনে আইজেনকটের দিকে ৬৭ আইনপ্রণেতার সমর্থন

Published: November 6, 2026, 2:05 pm

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের দৌড়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন গাদি আইজেনকট। দেশটির নেসেট বা পার্লামেন্টের ১২০ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে ৬৭ জনের সমর্থন পেয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের আলোচনার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা। আইজেনকটের এই সমর্থন প্রাপ্তি সরকার গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের আলোচনা শেষে এ তথ্য জানা গেছে। ইসরাইলের রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে নতুন নেসেটের স্পিকার নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার ডেপুটিদের সঙ্গে মিলে তিনি আইন প্রণয়নের কর্মসূচি ও পার্লামেন্টের আলোচ্যসূচি নিয়ন্ত্রণ করেন।

প্রেসিডেন্ট হারজগ জানিয়েছেন, আইজেনকটের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পাওয়া গেলেও সরকার গঠনের ম্যান্ডেট প্রদানের আগে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আরও আলোচনার প্রয়োজন বোধ করছেন। আগামী রোববার তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন। তবে আইজেনকটের দল ইয়াশা দ্রুত তার হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব অর্পণের দাবি জানিয়েছে। দলটির দাবি, ২০১৫ সালের পর থেকে কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর পক্ষে পাওয়া এটিই সর্বোচ্চ সমর্থন, যা জনগণের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ।

আইজেনকটের সরকার গঠন প্রক্রিয়া অবশ্য বেশ জটিল। বিরোধী শিবিরের ৪৮ সদস্যের চারটি ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দল এবং ১৯ সদস্যের দুটি আরব-নেতৃত্বাধীন জোট তাকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলো এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকারে বসার বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না। অন্যদিকে গত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর বিদায়ী জোট ৫৩টি আসন পেলেও সাত আসনের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করেনি, যা আইজেনকটের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হতে পারে। ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত লিবারম্যানের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মনে করেন, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকারে যোগ দেয়া কিংবা তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করার চেয়ে হারেদি দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করা ভালো।

চ্যানেল ১২ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির চেয়ারম্যান আভিগদর লিবারম্যান বিদ্যমান কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি এখন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন। এমন পরিস্থিতিতে আইজেনকট ও লিবারম্যানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ভাগাভাগির সমঝোতা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। পাশাপাশি হারেদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের মতো বিতর্কিত বিষয়েও নতুন করে আলোচনা হতে পারে। এতে বলা হয়েছে, ইসরাইল বেইতেনু পার্টির চেয়ারম্যান আভিগদর লিবারম্যান হারেদি দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তার দীর্ঘদিনের আপত্তি শিথিল করেছেন।

এদিকে আগামী ১০ নভেম্বর নতুন পার্লামেন্ট সদস্যদের শপথের পরই স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টি সামনে আসবে। বর্তমানে লিকুদ পার্টির দখলে থাকা স্পিকারের পদটি পরিবর্তনের জন্য তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার আরব দল রা’আম ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা ইয়াশা, জয়েন্ট (আরব) লিস্ট, ইসরায়েল বেইতেনু ও দ্য ডেমোক্র্যাটসের সঙ্গে মিলে স্পিকার পদে আগাম ভোটের দাবি জানিয়েছে। বর্তমান স্পিকার আমির ওহানা জানিয়েছেন, অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার আনুষ্ঠানিক আবেদনের প্রেক্ষিতেই তিনি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন। ফলে নতুন সরকার গঠন এবং স্পিকার নির্বাচন—উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় ধরনের দর-কষাকষির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে লিকুদ পার্টির বর্তমান স্পিকারকে সরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হতে পারে।