২১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বর থেকে বিনা খরচে বিদেশে কর্মী পাঠানো শুরু: প্রবাসী মন্ত্রী

Published: November 6, 2026, 2:39 pm

আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বিজয়ের মাস থেকে এই নতুন উদ্যোগটি চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে দুটি বা তিনটি ফ্লাইটের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং পরবর্তীতে চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকারী তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্টদের সঙ্গে এই সভায় আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল অভিবাসন প্রক্রিয়াকে সহজ ও সাশ্রয়ী করা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের মিলনায়তনে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকারী তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্টদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নতুন এই ব্যবস্থায় বিদেশগামী কর্মীদের ওপর কোনো আর্থিক চাপ থাকবে না। বিদেশ যাত্রার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করবে বিদেশি নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। প্রক্রিয়াটিকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সার্ভিস চার্জও রহিত করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সির একচেটিয়া আধিপত্য কমিয়ে সব বৈধ এজেন্সিকে সমান সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মন্ত্রী। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এ নিয়ে একটি নতুন সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী কর্মীদের যেকোনো সমস্যা মোকাবিলায় আলাদা সেল গঠনেরও প্রক্রিয়া চলছে।

মেডিকেল পরীক্ষার ফি নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে জানান, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য মেডিকেল ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের এই ব্যবসাকে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গুটিকয়েক অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে পুরো খাত যেন বিতর্কিত না হয়। ব্যবসায়িক মুনাফার পাশাপাশি রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং কর্মীদের বিদেশের আইনকানুন সম্পর্কে সচেতন করার দায়িত্ব পালনে তিনি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এজেন্সির অবহেলা বা অনিয়মের ফলে দরিদ্র কর্মীরা যাতে কোনো প্রকার ভোগান্তির শিকার না হয়, সেজন্য কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।