১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গার্মেন্টসে অস্থিরতার পেছনে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ইন্ধন, নজরদারিতে গোয়েন্দারা

Published: November 3, 2026, 12:18 pm

তৈরি পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ কেবল সাধারণ দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর পেছনে রয়েছে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের গভীর ষড়যন্ত্র। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত হয়েছে যে, সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডিসেম্বর মাসকে টার্গেট করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কলকারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির পেছনে এসব ইন্ধনদাতার সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে নেপথ্যে থেকে অর্থায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানোর অকাট্য প্রমাণও গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে। শীর্ষ মহলের সবুজ সংকেত পেলেই এ বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনা ও দায়িদের বিস্তারিত পরিচয়সংবলিত প্রতিবেদন সরকারের সর্বোচ্চ মহলের কাছে রয়েছে। এমনকি গুজব ছড়িয়ে সহিংস ঘটনা ঘটানোর আশঙ্কাও করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পতিত সরকারকে ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে শোনা গেছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী এবং নির্দিষ্ট কিছু শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন। বিশেষ করে গত রোববার মিরপুর, গাজীপুর ও সাভার এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের তথ্য মিলেছে। দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত পোশাক শিল্পকে অচল করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এসব ঘটনায় জড়িতদের একটি তালিকা সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে অনেককে গ্রেফতারের পাশাপাশি বাকিদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত ডিসেম্বর মাসকে টার্গেট করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার লক্ষ্যে অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসাবে পরিচিত গার্মেন্টশিল্পকে টার্গেট করেছেন তারা।

শিল্প এলাকার স্পর্শকাতর স্থাপনা, যেমন মেট্রোরেল, ব্যাংক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়ানোর আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থা।

প্রতিবেদনে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতার জানান, শ্রমিকরা গণতান্ত্রিকভাবে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন করতে পারেন, কিন্তু বর্তমানে এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চলছে। তিনি কারখানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাধারণ শ্রমিকরা এসবের সঙ্গে জড়িত নন।

তাসলিমা আখতারের মতে, মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে দ্রুত বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা না হলে গণ-অভ্যুত্থানবিরোধীরা এই সুযোগটি কাজে লাগাবে। সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার অভিযোগ করেন, সাধারণ শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ও পথরোধ করে জোরপূর্বক আন্দোলনে নামানো হচ্ছে। তিনি বলেন, গঠনমূলক আন্দোলনের পথে কেউ বাধা দেয় না, তবে শিল্পের ক্ষতি হলে তার দায়ভার শ্রমিকদের ওপরই এসে পড়বে। মজুরি বাড়ানোর শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ এমপ্লায়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান মনে করেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা অবশিষ্ট থাকে না। তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করতে পোশাক শিল্পকে টার্গেট করেছে। শিল্পমালিকরা সব সময় শ্রমিকদের অবদানকে মূল্যায়ন করেন, কিন্তু অপশক্তির ইন্ধনে কারখানা ভাঙচুরের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।