২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম ও দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

Published: November 5, 2026, 6:05 pm

রাজধানীর বাড্ডায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং দফায় দফায় গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কৃষক, শ্রমিক ও মা-বোনদের মুখে হাসি ফোটাতে হবে এবং আয়-ব্যয়ের সামর্থ্যের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু রাখতে হবে। একজন শ্রমিক ভাইকে জীবন দিতে হতো না।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে উত্তর বাড্ডায় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচে আয়োজিত সমাবেশের পর একটি বিশাল মিছিল বের করা হয়, যা বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে বিপুলসংখ্যক নারী অংশ নেন, যাঁদের হাতে হাড়ি-পাতিল এবং এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ফেস্টুন দেখা যায়।

বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী হিসেবেও পরিচিত। সমাবেশে তিনি বলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা ব্যক্তিগত দাবি নিয়ে এখানে জড়ো হননি। বরং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাদের এই কর্মসূচি। বাজারে বর্তমান অস্থিরতায় মানুষের চোখেমুখে যে হতাশা স্পষ্ট, তা সরকারের অনুধাবন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে কিংবা কোনো দলকে গালিগালাজ করতে বা বিতর্কিত করতেও আসিনি। মানুষের আয় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কোনোভাবেই সামঞ্জস্য নেই। ন্যায্যমূল্যে জনগণের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

সেলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় সে অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। বাজারে বিদ্যমান সিন্ডিকেট ভাঙার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার মান না বাড়িয়ে কেবল কৃত্রিম উন্নয়নের গল্প শোনানো যাবে না। সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের আস্থা অর্জন করতে না পারলে ক্ষমতায় টিকে থাকা অসম্ভব। দেশের জনগণকে অস্তিত্বসংকট ও অনিরাপত্তার মধ্যে রেখে উন্নয়নের ফানুস ওড়ানো যাবে না। কার্ড বিতরণ করেন আর যা-ই করেন, এসব দিয়ে জনগণকে বোঝাতে পারবেন না। তিনি আরো বলেন, আমরা এমন একটি দেশ চাই না, যেখানে কৃত্রিমভাবে উন্নয়নের কথা বলা হবে, অথচ দেশের জনগণের বাস্তব জীবনমানের কোনো উন্নতি হবে না।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, শ্রমিকরা তাদের বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিক দাবি জানিয়েছেন। তাদের ওপর লাঠিচার্জ না করে ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নেওয়া উচিত ছিল। শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্দোলন ন্যায়সংগত হলেও গাড়ি ভাঙচুর বা কারখানায় আগুন দেওয়ার মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। তৃতীয় পক্ষ যেন শ্রমিকদের আন্দোলন ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও চাকরি থেকে ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, শ্রমিক ভাইদের অনুরোধ করব, আমরা আপনাদের পাশে আছি। তাঁদের মাসিক বেতন যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে। তার মানে এই নয় যে, গাড়ি ভাঙচুর করবেন কিংবা কারখানায় আগুন দেবেন, আর আমরা সেসব কর্মকাণ্ডের পক্ষেও থাকব। শ্রমিক ভাইদের প্রতি আমাদের আহ্বান, আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। চলমান শ্রমিক আন্দোলনে কারা ভাঙচুর ও নাশকতা করার চেষ্টা করছে, সরকারকে তা খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক রাখার সুযোগ নেই। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সরকার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু সরকার বিভাজনের পথ বেছে নিয়েছে। অবিলম্বে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার বিভাজনের সূচনা করেছে। কিন্তু এর পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ইয়াসিন আরাফাত এবং প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি, মাওলানা কুতুবউদ্দিন, ফজলে আহমেদ এবং মিজানুর রহমান খান।