
পৈতৃক সম্পত্তি বা ভূমির সঠিক অবস্থান ও পরিমাণ সম্পর্কে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা থাকে না। অনেকে জমির কথা জানলেও সঠিক তদারকির অভাবে তা বেদখল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন। বিশেষ করে শহর এলাকায় বেড়ে ওঠা মানুষের জন্য গ্রামের সম্পত্তির খোঁজখবর রাখা তুলনামূলক কঠিন। সাধারণ নাগরিকদের এমন সমস্যা দূর করতে সরকার ই-পর্চা (e-Porcha) নামে একটি ডিজিটাল সেবা চালু করেছে।
এই অনলাইন ব্যবস্থার কল্যাণে এখন ঘরে বসেই মাত্র দুই থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে বাবা, দাদা বা নানা-নানীর নামে থাকা মোট ভূমির পরিমাণ ও অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া সম্ভব। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহার করেই এটি যাচাই করা যায়। আগে যেখানে জমির খতিয়ান এবং মালিকানা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সরেজমিনে ভূমি অফিসে যেতে হতো, সেখানে নতুন এই ব্যবস্থায় সেই ভোগান্তি কমেছে। নাগরিকরা অনলাইনে অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মটি থেকে সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদনও করতে পারছেন।
অনলাইনে জমির তথ্য অনুসন্ধানের জন্য প্রথমে ব্যবহারকারীকে www.eporcha.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সার্চ ইঞ্জিনে ‘e-porcha’ লিখে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে ঢোকার পর ‘খতিয়ান অনুসন্ধান’ অপশনটি বেছে নিতে হবে। পরবর্তী ধাপে স্ব স্ব বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং সংশ্লিষ্ট মৌজা সিলেক্ট করার নিয়ম রয়েছে।
পরের ধাপে আবেদনকারীকে CS, SA, RS কিংবা BS পর্চার মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় ধরনটি বাছাই করতে হবে। এখানে একসঙ্গে একাধিক ধরন বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই, তাই প্রতিটি পর্চা আলাদাভাবে সিলেক্ট করতে হয়। মৌজা নির্ধারণ করার পর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান চালানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে দাদা, বাবা, স্বামী, ভাই কিংবা মামার নাম লিখেও মালিকানার খোঁজ করা যায়। সবশেষে পর্দায় থাকা ক্যাপচা কোডটি সঠিকভাবে দিয়ে ‘অনুসন্ধান’ বাটনে ক্লিক করলেই কাঙ্ক্ষিত জমির খতিয়ান বিবরণ ভেসে ওঠে।
ডিজিটাল এই সেবা কার্যক্রম চালু হওয়ায় নাগরিক জীবনে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভূমি অফিসে না গিয়ে ঘরে বসেই মিলছে ভূমির নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য তথ্য। দেশের সামগ্রিক ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যেই সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ই-পর্চা ওয়েবসাইট ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত সার্বিক হয়রানি ও দুর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।





