
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত থেকে ক্যাম্পাসের তথ্য আদান-প্রদান এবং ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগে মো. হাসিবুল হাসান নামে এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। হাসিবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তার বাবা শাহজাহান মিয়া ইতিহাস বিভাগের সেকশন অফিসার হিসেবে কর্মরত। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিজ্ঞান অনুষদ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা এবং রাত আড়াইটার দিকে তাকে হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটকের পর ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন তল্লাশি করে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বেশ কিছু প্রমাণ মিলেছে। তিনি ১৬৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত ছিলেন, যেখানে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনানসহ চবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আবরার শাহরিয়ার, ওয়াহিদুল আলম, সৌমেন দত্ত ও পিজুসহ অন্যরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুল জানান, আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরেই তিনি ১ নম্বর গেটে ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। ওই সময় তাকে কিছু পোস্টার বিলি করতে দেওয়া হলেও ক্ষতির আশঙ্কায় তিনি সেগুলো ফেলে দেন বলে দাবি করেন। হাসিবুলকে আটকের সময় তার ফোনে আবরার শাহরিয়ার ভিডিও কলও করেছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে চবি শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক ও চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া জানান, রাতে মোটরসাইকেলে সন্দেহজনক চলাচলের সময় তাকে নজরদারিতে রাখা হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী ‘ক্যাম্পাসে শিবিরের টহল চলছে’ মর্মে একটি বার্তা পাঠালে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। এরপর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরে নিয়ে সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ছাত্রলীগের কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার কথা স্বীকার করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল হোসেন জানান, সন্দেহের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই শিক্ষার্থীর স্বীকারোক্তি এবং মোবাইলে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন এখন এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেবে। পামবাগান এলাকায় বসবাসরত এই শিক্ষার্থীর বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।





