১১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টঙ্গীতে শিশু নিপীড়নের প্রতিবাদকারী শাহজালাল রুমির খোঁজ মিলছে না

Published: October 27, 2026, 5:48 pm

টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার শফিউদ্দিন একাডেমি রোডের ১৩০ নম্বর বাড়ির ৭৪/১ হোল্ডিংয়ের ৬/বি নম্বর ফ্ল্যাটটি বর্তমানে তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার সকালে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ওই ফ্ল্যাটে কেউ নেই। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার গত শুক্রবার থেকেই বাসায় নেই। তিনি আরও জানান, রুমি মাঝেমধ্যে সেখানে আসতেন এবং তিনি বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। তবে শাহজালাল রুমি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

শাহজালাল রুমির শ্বশুর আলহাজ মোকারম আলী মুঠোফোনে জানান, রুমি দেশে আছেন নাকি বিদেশে, সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।

তারাও বর্তমানে আগের বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। এদিকে সোমবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিকদের কাছে এক বার্তায় রুমি নিজেই দাবি করেছেন, তিনি এখন আর এই দেশে নেই এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি আর ভাবছেন না। তবে তার এই দাবি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, শাহজালাল রুমি বর্তমানে কোথায় আছেন সে সম্পর্কে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই, তবে তার বাসায় কাউকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া ওই শিশুর সাথে নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে হোয়াটসঅ্যাপে এক প্রশ্নের জবাবে সোমবার রাতে এক খুদে বার্তায় রুমি সাংবাদিকদের জানান, ‘ভাই, আমি এই দেশেই আর নাই; সুতরাং আমি এগুলো নিয়ে আর ভাবছি না। তবে বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য যে, গত ২১ অক্টোবর মাদরাসার এক শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিন কর্তৃক শিশু শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। ওইদিন শিক্ষককে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। রুমি পরবর্তীতে টঙ্গী পশ্চিম থানায় শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে মাদরাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকেও রুমির বিরুদ্ধে মাদরাসা ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা চুরির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। গাজীপুরের টঙ্গীতে ক্বারিউল কুরআন মাদরাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করে আলোচনায় সেই শাহজালাল রুমির খোঁজ মিলছে না। এর পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে দায়ের করা পাল্টা মামলায় রুমির বিরুদ্ধে মাদরাসায ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।