১১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেন্ট মার্টিনে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত রাত যাপনে ছাড়

Published: October 27, 2026, 6:58 pm

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ নিয়ে পর্যটক, হোটেল মালিক ও জাহাজ পরিচালকদের মধ্যে থাকা দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তির অবসান হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপে যাতায়াতের পাশাপাশি রাতেও অবস্থান করতে পারবেন। ২৭ অক্টোবর এ বিষয়ে আগের আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তে সংশোধনী আনা হয়েছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ থাকবে। ফলে এবার পর্যটকদের যাতায়াতের সময়সীমা বাড়লেও রাতযাপনের ক্ষেত্রে গত বছরের নিয়মই বহাল থাকছে বলে ধারণা তৈরি হয়। এটা নিয়ে পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান জানান, আগে নভেম্বর এবং ফেব্রুয়ারি-মার্চে অবস্থান নিয়ে যে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল, তা এখন স্পষ্ট করা হয়েছে।

ফলে পর্যটকেরা এখন পুরো সময়কালেই দ্বীপে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন।

গত ১২ অক্টোবর আয়োজিত আন্তমন্ত্রণালয় সভার আলোকে ২৫ অক্টোবর পরিবেশ-২ শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল, যেখানে মূলত আগের ২২ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনটিই বহাল রাখার কথা ছিল। এতে পর্যটকদের মধ্যে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পর মন্ত্রণালয় এই সংশোধিত সিদ্ধান্ত নিল। এতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা বহাল রাখা হয়েছিল।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্রমণকারীদের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্তাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে

  • দৈনিক পর্যটক সংখ্যা: দ্বীপে ভ্রমণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে সাড়ে ৩ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • পরিবেশ ফি: প্রতিটি পর্যটককে ভ্রমণের সময় ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি প্রদান করতে হবে।
  • যাতায়াত ব্যবস্থা: কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়ায় বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ যাতায়াত করবে।
  • ট্রাভেল পাস: গতবারের মতো এবারও পর্যটকদের ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করে দ্বীপে যেতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি চলছে।

দ্বীপের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বিধিনিষেধ

পরিবেশ রক্ষায় আগের প্রজ্ঞাপনে জারি করা কঠোর বিধিনিষেধ এবারও বহাল রয়েছে

  • সৈকতে রাতে কোনো ধরনের আলো জ্বালানো নিষিদ্ধ।
  • উচ্চশব্দ সৃষ্টি করা এবং সৈকতে বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা সম্পূর্ণ বারণ।
  • কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা তা কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  • সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালের মতো জীববৈচিত্র্যের কোনো ক্ষতি করা যাবে না।
  • সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যান্ত্রিক যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • এশিয়ার সেরা ২০ সমুদ্রসৈকতের তালিকায় কক্সবাজার কি আছে।