৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের কোহাটে মসজিদে হামলা: নিহত ১৬, আহত অর্ধশতাধিক

Published: September 18, 2026, 6:26 pm

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট পুলিশ লাইনস এলাকায় শুক্রবার বিকেলে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি মসজিদে চালানো আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ সদস্যসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জুলফিকার হামিদ জানিয়েছেন, এই হামলায় আরও ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দ্রুত উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। চারদিকে ছড়িয়ে থাকা ইট-পাথরের স্তূপের মাঝে আহতদের উদ্ধারে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল নাগাদ বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ লাইনসের প্রধান ফটকে আঘাত করে। এরপর হামলাকারীদের একটি দল কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) ভবনের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের তুমুল গোলাগুলি হয়। আইজি জুলফিকার হামিদ জানান, একজন আত্মঘাতী হামলাকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছাকাছি বিস্ফোরণ ঘটায়। সব মিলিয়ে সাতজন জঙ্গি পুলিশ লাইনসে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল। অভিযান শেষে এক আত্মঘাতীসহ মোট ছয়জন জঙ্গি প্রাণ হারায়।

আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়ে আইজি জুলফিকার হামিদ এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি একে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও জঘন্য কাজ বলে অভিহিত করেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এই ঘটনায় গভীর শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এই ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। রেডিও পাকিস্তানের তথ্যমতে, তিনি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করারও নির্দেশ দিয়েছেন।

খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দিও এই হামলার নিন্দা জানিয়ে আহতদের জন্য প্রার্থনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে পুরো জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। উল্লেখ্য, কোহাট পুলিশ লাইনস অতীতেও জঙ্গি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। ২০১০ সালে পুলিশের একটি কলোনিতে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা হামলায় ২০ জন নিহত ও ৯০ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিস্ফোরকবোঝাই একটি যান প্রথমে পুলিশ লাইনসের প্রধান ফটকে আঘাত হানে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপরই নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন জঙ্গি গোষ্ঠী ‘ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন’ এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণে একটি ভবনের দেয়াল ধসে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আহতদের দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়ে বলেন, নিরীহ মানুষের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।