১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারি প্রতিনিধি দল

Published: November 1, 2026, 9:49 pm

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কাতার। দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তারা ইরানের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যখন আবার নতুন করে চরম রূপ নেওয়ার আশঙ্কায়, ঠিক তখনই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বরফ গলাতে তৎপর হয়ে উঠেছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো।

চলমান এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি বার্তাও পেয়েছে। বার্তাটি ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মহসিন রেজাইয়ের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে সরাসরি কোনো শর্ত আরোপের চেয়ে আলোচনার একটি কাঠামো তৈরির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভ্যান্স গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতায় এই যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বরং ভবিষ্যতে কীভাবে আলোচনার টেবিলে বসা যায় বা আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো কেমন হতে পারে, সেটার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ জানায়, ভ্যান্স গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এ বিশেষ যোগাযোগের উদ্যোগ নেন এবং চিঠিটি সফলভাবে জেনারেল মহসdন রেজাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শান্তি আলোচনাকে গতিশীল রাখতে কাতার ও পাকিস্তান চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত রবিবারও কাতারের একটি প্রতিনিধিদল পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য তেহরানে ছিল। এছাড়া, গত মঙ্গলবার মস্কোয় বৈঠকের সময় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও এ সপ্তাহে তেহরানে ধারাবাহিক বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। লক্ষণীয় যে, এই তিন দেশ আগস্টে মক্কায় একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। গত কয়েকদিনে আরও কয়েকটি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের রাজধানী সফর করেছেন।

তবে আলোচনার পথ এখনও বেশ জটিল। ইরান ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও তেল রপ্তানি সচল রাখতে তেহরান বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ দিতে ওয়াশিংটনকে সাতটি সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জাতীয় সম্পদ অবমুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে ইরানের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মক সংকটের মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যা দেশটির তেল রপ্তানি ও সার্বিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে চরম সংকটে ফেলেছে।