২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরের নয়, পূজামণ্ডপে আগুন লাগার ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের

Published: November 8, 2026, 7:35 pm

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা একটি শ্যামাপূজার মণ্ডপ দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে যে, ঘটনাটি বাংলাদেশের যশোর জেলার কালীর বাজারে ঘটেছে এবং সেখানে ইসলামপন্থী জঙ্গিরা মণ্ডপটি জ্বালিয়ে দিয়েছে। আজ রোববার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ৪০টির বেশি ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে যশোর জেলার ঘটনার দাবি করে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চোখের পলকে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক, পঞ্চম লিংক। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী শ্যামাপূজা আজ রোববার। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে সাধারণত শ্যামাপূজা বা কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। শ্যামাপূজাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপে আগুন লাগার ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘সাম্প্রদায়িক জঙ্গিদের বলি হচ্ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, এই দায় কার। এ ঘটনায় বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশন চ্যানেল সংবাদ প্রকাশ করেছে।

তবে বাস্তব তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়। গত শনিবার দুপুরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া থানার যশোড়া কালীবাজারের একটি পূজামণ্ডপে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকা, নিউজ বাংলা ১৮ ও এই সময়সহ স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পাঁশকুড়ায় কালীপুজোয় বিপত্তি, মাথায় হাত উদ্যোক্তাদের’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কালীপূজার আগের দিন পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার কালীবাজারের পূজামণ্ডপে ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রতিবেদনে পূজার সঙ্গে যুক্ত এক সদস্যের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্বোধনের আগেই পাঁশকুড়ার ওই মণ্ডপে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

পূজা কমিটির একজন সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, মণ্ডপে বৈদ্যুতিক কাজের সময় শর্টসার্কিট থেকে কাপড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়।

অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন, কিন্তু ততক্ষণে পুরো মণ্ডপটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তেও শর্টসার্কিট থেকেই আগুন লাগার সম্ভাবনা জোরালোভাবে উঠে এসেছে, তবে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। এর আগেও বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর দাবি প্রচারের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ১ লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে জাপান সরকারের কোনো ঘোষণা নেই মর্মে দেওয়া তথ্য বা পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে ৪৭টি অপপ্রচার শনাক্ত হওয়ার মতো উদাহরণ রয়েছে। বর্তমান ভিডিওটি নিয়েও একইভাবে ভুল দাবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে, যা প্রকৃত ঘটনা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ১ লাখ কর্মী নেবে জাপান সরকার, দাবিটি সত্য নয়।