৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধের

Published: September 19, 2026, 11:05 am

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন এবং নিয়মিত ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ তুলে তিনি এই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানান। প্রেসিডেন্টের দাবি, এই সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, ভবিষ্যতে তার পছন্দ নয় এমন আরও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। ওভাল অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প পুনরায় নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সংবাদ দেখে তিনি ক্লান্ত এবং তাদের দর্শকপ্রিয়তাও নিম্নমুখী। তার মতে, দেশের স্বার্থে সৎ সাংবাদিকতা প্রয়োজন।

নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিলেও এটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো নির্দেশনা দেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণেই দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। তবে ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অভিযুক্ত গণমাধ্যমগুলো। সিএনএনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সরকারের কোনো রকম বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ পরিবেশনের অধিকার তাদের রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলে তা মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে গণ্য হবে। এদিকে পলিটিকো জানিয়েছে, তারা যেকোনো মূল্যে তাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে এবং হোয়াইট হাউসের সংবাদ বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিবেশন অব্যাহত রাখবে।

গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের এই সংঘাত নতুন কোনো ঘটনা নয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার প্রশাসন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অতীতে মেক্সিকো উপসাগরের নামকরণ নিয়ে বিতর্কের জেরে এপি’র সাংবাদিকদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিলেন তিনি, যার ফলে একটি আইনি মামলা এখনো আদালতে চলমান। এছাড়া নিউইয় টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও বিবিসির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এবিসি নিউজের সম্প্রচার লাইসেন্স নবায়ন নিয়েও প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসের এই কর্মকাণ্ড মূলত প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করা স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল।

ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মার্ক শোয়েফ এই পদক্ষেপকে ‘ভিউপয়েন্ট ডিসক্রিমিনেশন’ বা মতাদর্শিক বৈষম্য বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, কোন সংবাদমাধ্যম প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রতিবেদন করবে তা নিয়ন্ত্রণ করাই এই প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি প্রধান সেথ স্টার্ন উল্লেখ করেন, সরকারের সমালোচনা করার জন্য সাংবাদিকদের ‘পিপলস হাউস’ থেকে নিষিদ্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর চরম লঙ্ঘন। পেন আমেরিকার সাংবাদিকতা ও অপতথ্যবিষয়ক পরিচালক টিম রিচার্ডসনও প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সংবিধানের প্রথম সংশোধনী কীভাবে কাজ করে, তা ট্রাম্পকে নতুন করে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। ট্রাম্পের এই আচরণ এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে তার টানাপোড়েন বর্তমানে মার্কিন বিচার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার কয়েকটি ঘটনা ইতিমধ্যে আদালতে গড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, অবিলম্বে কার্যকরভাবে, ‘আমি সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করছি’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জবাবে তিনি বলেন, ‘কারণ তারা ভুয়া খবর। (তাদের) ভুয়া খবর পড়তে ও দেখতে দেখতে আপনি খুবই ক্লান্ত হয়ে যাবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আপনি যখন সিএনএনের দিকে তাকান, (তখন দেখবেন) এটি শুধুই ভুয়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই অনেক সংবাদমাধ্যম আছে এবং আরও কেউ হয়তো তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে পাঠানো ই-মেইলের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি এমএস নাউ।