
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর ফলে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও তদন্তের সুযোগও প্রশস্ত হয়েছে দলটির জন্য।
নির্বাচনের সর্বশেষ ফলাফলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এর মধ্যে সাউথ ক্যারোলাইনা ও নর্থ ক্যারোলাইনায় বড় চমক দেখিয়েছে দলটি। এই দুই অঙ্গরাজ্যে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের হাত থেকে সিনেটের দুটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান সিনেটর ডারলাইন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। ১৯৯৮ সালের পর সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে আর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি।
আসনটি দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের দখলে ছিল। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর বোন ডারলাইন গ্রাহামকে সিনেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পূর্ণ মেয়াদের নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। নর্থ ক্যারোলাইনাতেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার। অঙ্গরাজ্যটির সাবেক দুই মেয়াদের গভর্নর কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন। আসনটির আগের সিনেটর থম টিলিস পুনর্নির্বাচনে অংশ নেননি।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। নতুন আইন পাস, বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের বিষয়ে এখন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে। পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত এবং প্রয়োজনে অভিশংসনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাবেন তারা। অন্যদিকে নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ব্যালটে ছিলেন না এবং এই পরাজয়ের দায় তাঁর নয়। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোকে তাঁর প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।





