
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অঞ্চলে ইসরাইলি সরকারের এ ধরনের উপস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি বয়ে আনতে পারে। তেহরান সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, নিরপরাধ মানুষের রক্তে হাত রঞ্জিত এবং আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের মুখোমুখি থাকা এমন একজন ব্যক্তির ওই অঞ্চলে উপস্থিতি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন ও লেবাননের সংঘাত এবং ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসনের বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়া ইতিহাসের অন্যতম নাজুক সময় পার করছে। ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং তেহরানের বিরুদ্ধে বারবার হুমকি প্রদানের বিষয়টি মাথায় রেখে আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কোনোভাবেই যেন তাদের ভূখণ্ড অস্থিতিশীলতা তৈরির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের দাবি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা একটি সম্মিলিত এবং অবিচ্ছেদ্য বিষয়। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তিকে অঞ্চলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে শেষ পর্যন্ত তা ওই অঞ্চলের প্রতিটি দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে বিভাজন, অনিরাপত্তা এবং অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই সব আঞ্চলিক সরকারের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার এবং শান্তি ও স্থায়িত্ব রক্ষায় সচেষ্ট থাকার তাগিদ দিয়েছে তেহরান।
সর্বোপরি, এই ধরনের কূটনৈতিক সফর পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করে ইরান। কোনো বিশেষ আঞ্চলিক শক্তিকে অন্য কোনো দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য নিজস্ব ভূমি ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। এই পুরো পরিস্থিতিকে তেহরান আঞ্চলিক শান্তি ও সংহতির জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছে।





