২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত বহাল

Published: October 6, 2026, 10:35 pm

বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার শর্তটি বাতিলের যে রায় হাইকোর্ট দিয়েছিলেন, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক মঙ্গলবার এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্তটি কার্যকর থাকবে এবং এতে তাদের অংশ নিতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগ ৪৬ জন সহকারী প্রধান শিক্ষকের করা একটি রিটের শুনানি শেষে ওই অভিজ্ঞতার শর্তটি বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর আলোকে এই রিটটি করা হয়েছিল। রিট আবেদনকারী শিক্ষকদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন ও আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবীর। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ২০২৫ সালের ১০ মার্চ সংশোধিত এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনের জন্য ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই অংশটুকুর বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে ৪৬ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক রিট করেছিলেন। হাইকোর্ট সেই নীতিমালা সংশোধনীর অংশ বাতিল করেছিলেন, যা এখন আপিল বিভাগে স্থগিত করা হয়েছে। নিয়মিত লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, আদালত একদিকে যেমন অভিজ্ঞতার শর্তসংবলিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন, তেমনি রিটকারী ৪৬ জন শিক্ষকের জন্য প্রধান শিক্ষকের সমসংখ্যক পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়। সেখানে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে তিন বছরসহ মোট ১৭ বছরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে ১০ মার্চ সংশোধনী এনে মোট অভিজ্ঞতার সময়সীমা ১৮ বছর করা হয়। এরপর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫–এর কয়েকটি অনুচ্ছেদে গত ১০ মার্চ সংশোধনী আনা হয় বলে জানায় রিট আবেদনকারীপক্ষ।

এই সংশোধনীর বিরুদ্ধে রিট করা হলে গত ১২ মার্চ প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরবর্তীতে ৯ এপ্রিল সংশোধিত নীতিমালার অংশ নিয়ে পুনরায় সম্পূরক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল দেন। সবশেষে ২৩ জুলাই রিটের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়, যেখানে অভিজ্ঞতার শর্তটি বাতিলের পাশাপাশি ৪৬টি পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান চেম্বার আদালতের আদেশে ওই রায়ের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রাখার পথ প্রশস্ত হলো।