২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকের বাবাকে অপহরণের ঘটনায় যুবদল নেতা কারাগারে

Published: October 7, 2026, 12:09 am

মুন্সীগঞ্জে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাহিদ হাসানের বাবাকে অপহরণ ও ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী কাজী মো. হাবিবুর রহমানের দায়ের করা মামলায় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীব হোসেন অপুসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর এই মামলাটি রেকর্ড করে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাজীব হোসেন অপু এবং স্বপন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দুরদানা রহমান তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির ২ লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

ভুক্তভোগী মো. হাবিবুর রহমান (৫২) মুন্সীগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে নিকাহ রেজিস্টার হিসেবে কর্মরত। তার অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে রাজীব ও স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসায় যান। এরপর বিয়ে পড়ানোর নাম করে তাকে প্রথমে কাজী অফিসে এবং পরে জোরপূর্বক মুক্তারপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে স্বপন দাবি করেন, তার স্ত্রী ইতি গত ১লা অক্টোবর হাবিবুর রহমানের অফিসে তালাক নিবন্ধন করেছেন। এই অজুহাতে তারা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। লাইসেন্স বাতিল এবং হত্যার হুমকির মুখে ভুক্তভোগী নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করে তা অভিযুক্তদের প্রদান করেন। অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে কাটাখালী এলাকায় কাজী হিসেবে নিকাহ্‌ পড়ানো ও বিবাহ নিবন্ধনের কাজ করে আসছিলেন। সেখানে একটি কক্ষে তাকে আটকে রেখে স্বপন দাবি করেন, তার স্ত্রী ইতি (২৫) গত ১লা অক্টোবর কাজী হাবিবুর রহমানের অফিসে বসে তাকে তালাক দিয়েছেন এবং তিনি ওই তালাক নিবন্ধন করেছেন। নিজের প্রাণ রক্ষায় তিনি টাকা দিতে রাজি হন। তারা টাকা দিয়ে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আমার বাবার কাজী অফিসের দিকে তাকাবে না।

ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিক নাহিদ হাসান জানান, বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য শুরুতে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং মামলা না করতে ভয় দেখানো হয়। তিনি জানান, অপহরণকারীদের সিন্ডিকেটে যুবদল, ছাত্রদল ও স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত। তারা প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিল, পরে তা দুই লাখে নেমে আসে। সোমবার রাত ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানের পরামর্শে হাবিবুর রহমান থানায় যান। এসময় রাজীব অপু থানায় উপস্থিত হয়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলে ওসির সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয় অপহৃতের টাকা। একইসঙ্গে মামলা করলে পরবর্তীতে কী হতে পারে তা নিয়েও আমাকে ভয় দেখানো হয়।

সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তসলিমউদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত রাজীব হোসেন অপু ও স্বপনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। জেলা যুবদলের সভাপতি সোহেল আহমেদ জানিয়েছেন, কোনো চাঁদাবাজ বা দুষ্কৃতকারীর ঠাঁই যুবদলে নেই এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটির সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িত সকলের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। আমাকে বলা হয়, আমরা যেন বিষয়টি মেনে নেই।