২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইল ছাড়ছেন ২০ বৃটিশ কূটনীতিক, নাম বদলাচ্ছে কনস্যুলেটের

Published: October 8, 2026, 2:11 pm

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় বৃটেন ও ইসরাইলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দখলকৃত এলাকায় ইসরাইলি বসতিগুলোর ওপর বৃটেনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দুই দেশের মধ্যে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার অংশ হিসেবে ইসরাইল ত্যাগ করছেন ২০ জন বৃটিশ কূটনীতিক। তবে জেরুজালেমে বৃটেনের কূটনৈতিক উপস্থিতি পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না, বরং কনস্যুলেট জেনারেলের নাম পরিবর্তন করে এখন রাখা হয়েছে ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’। এমনকি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন করছে। আর তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে ইসরাইলি সেনারা। এরপর আরও কয়েকটি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার নিয়েছে। বৃটিশ সরকার দীর্ঘদিনের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর জানিয়েছেন, দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত বৃটিশ কনস্যুলেট জেনারেল আর আগের কাঠামোয় কার্যক্রম চালাবে না। কনসাল জেনারেলসহ ২০ জন কূটনীতিক দেশ ছেড়ে যাবেন। তবে ভবনটি বৃটিশ সরকারের নিজস্ব হওয়ায় সেখানে সাতজন কূটনীতিক নিয়ে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু থাকবে। ইতিমধ্যে ভবন থেকে আগের সাইনবোর্ড ও নামফলক সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সা’আর স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে তার পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যা থেকে ইসরাইল পিছু হটবে না।

পরিস্থিতি অনুযায়ী, বৃটেন চাইলে ২৭ জন ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ নিতে পারত। তবে সমঝোতার শর্তানুযায়ী লন্ডনে দায়িত্ব পালনরত ইসরাইলি কূটনীতিকরা নিজ নিজ পদে বহাল থাকছেন। বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেন, জেরুজালেমে প্রায় ২০০ বছর ধরে থাকা কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধ করার আইনগত অধিকার ইসরাইল সরকারের রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। তিনি পূর্ব জেরুজালেমকে ‘দখলকৃত ভূখণ্ড’ হিসেবে পুনরায় উল্লেখ করেন। মিলিব্যান্ডের ভাষ্যমতে, নতুন মিশনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবে বৃটেন এবং এই সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত সাময়িক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের জনগণের শান্তি রক্ষায় দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের লক্ষ্যে গত ৮ই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একযোগে বৃটেন যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, তাতে দেশটি এখনো অটল রয়েছে। এছাড়া আলোচনার সময় কোনো পক্ষই পারস্পরিক কোনো পাল্টা পদক্ষেপ না নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।