২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনে প্রস্তুত কাতার, ৯৫ শতাংশ অবকাঠামোই তৈরি

Published: October 8, 2026, 2:43 pm

ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজন এবং এর দীর্ঘমেয়াদী ক্রীড়া উত্তরাধিকারকে কাজে লাগিয়ে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে কাতার। দোহায় বিশ্বের এই বৃহত্তম ক্রীড়াযজ্ঞটি সফলভাবে নিয়ে আসার মাধ্যমে দেশটি তাদের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত করতে চায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পূর্ব অভিজ্ঞতা, মজবুত ক্রীড়া অবকাঠামো এবং দক্ষ সাংগঠনিক কাঠামোই এই বিডের প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

কাতারের অলিম্পিক যাত্রার পরবর্তী বড় ধাপ হিসেবে সামনে রয়েছে ২০৩০ সালের এশিয়ান গেমস। এই মহাদেশীয় প্রতিযোগিতাটি দেশটির সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এশিয়ান গেমসের এই সফল আয়োজন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রদায় এবং এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের কাছে কাতারের প্রতি আস্থার বিষয়টি আরও পোক্ত করবে। কাতারের অলিম্পিক যাত্রায় পরবর্তী বড় মাইলফলক হতে চলেছে ২০৩০ সালের এশিয়ান গেমসের পতাকা গ্রহণ। এশিয়ান গেমসের এই আয়োজন কেবল প্রতিযোগিতার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি এশিয়ার অলিম্পিক কাউন্সিল এবং ক্রীড়া সম্প্রদায়ের সেই আস্থারই প্রতিফলন, যা কাতারের ওপর প্রতিনিয়ত বজায় রয়েছে।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। কাতার অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট এবং বিড কমিটির চেয়ারম্যান মহামান্য শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানির নেতৃত্বে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অলিম্পিক কমিটির আগ্রহী দেশগুলোর তালিকায় কাতার স্থান পাওয়ায় তাদের এই বিড বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশটির ক্রীড়া ইকোসিস্টেমের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো এর অবকাঠামোগত প্রস্তুতি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অলিম্পিক গেমস আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ভেন্যু, স্টেডিয়াম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রায় ৯৫ শতাংশই বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে। নতুন করে অলিম্পিক সিটি নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান উন্নত স্টেডিয়াম, জলক্রীড়া কমপ্লেক্স, আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক নেটওয়ার্কের সঠিক ব্যবহারই এই বিডের মূল লক্ষ্য। আবাসন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় কাতার এরই মধ্যে বিশ্বমানের সক্ষমতা অর্জন করেছে। কাতারের এই উদ্যোগ কেবল একটি একক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের চেয়ে অনেক বড়, যার মূল লক্ষ্য হলো একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া।

সাংগঠনিক ও প্রযুক্তিগত শক্তির পাশাপাশি এই বিডকে রাজনৈতিকভাবেও জোরালো সমর্থন দিচ্ছে আরব লীগ কাউন্সিল। মন্ত্রিপর্যায়ের এই সমর্থন কাতারের প্রস্তুতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য উত্তরাধিকার এবং বিদ্যমান পরিকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে কাতার ২০৩৬ সালের অলিম্পিকের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হতে চায়। এই আঞ্চলিক সমর্থন কাতারের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।