১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকৌশল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিল্পখাতের চাহিদা পূরণে জোর

Published: October 11, 2026, 10:31 pm

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পর বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা এবং তা আরও উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত শিক্ষাক্রমের সাথে শিল্প খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সামঞ্জস্য থাকা একান্ত প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবমুখী সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দিয়ে তারা কার্যকর নীতিমালা, শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘বিএইটিই জাতীয় সিম্পোজিয়াম ২০২৬’-এ এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের (আইইবি) অধীন প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষার স্বীকৃতি বোর্ড (বিএইটিই) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অধ্যাপক, বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবী প্রকৌশলীরা অংশ নেন। আজ রোববার রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রকৌশলশিক্ষার মান নিশ্চিতে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে নীতিসহায়তার ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে এ কথা উঠে আসে। ‘বিএইটিই জাতীয় সিম্পোজিয়াম ২০২৬’ শীর্ষক এ আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা দেন মালয়েশিয়ান সোসাইটি ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির সভাপতি মেগাত জোহারি মেগাত মোহাম্মদ নূর। তিনি বলেন, মানসম্মত প্রকৌশল শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কারিগরি জ্ঞানের পাশাপাশি বিশ্লেষণী দক্ষতা ও জটিল সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা থাকতে হবে। তার মতে, পাঠ্যক্রমে নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, নৈতিকতা এবং জীবনব্যাপী শেখার মানসিকতা যুক্ত করা জরুরি। স্নাতকদের যোগ্যতার সাথে যেন শিল্প খাতের চাহিদার মিল থাকে, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মূল্যায়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রয়োজন। শিক্ষার মানের ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বীকৃতিদানকারী সংস্থা ও শিল্প খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক লক কাই সাং জানান, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এই অর্জনকে ভিত্তি করে এখন প্রকৌশল শিক্ষার মান ধারাবাহিকভাবে উন্নত করতে হবে। তিনি স্বীকৃতি ব্যবস্থার স্বাধীনতা, বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা এবং পর্যাপ্ত সম্পদ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অধ্যাপক লক বলেন, স্বীকৃতির অর্থ কেবল নিয়ম মেনে চলা নয়, বরং শিক্ষার্থীরা প্রকৃতপক্ষে কী শিখছেন এবং কোন ধরনের দক্ষতা অর্জন করছেন, তা প্রমাণভিত্তিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

বিএইটিইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক তানভীর মনজুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সাথে বাস্তব পেশাগত কাজের ব্যবধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কর্মক্ষেত্রে বাস্তব সীমাবদ্ধতা ও অসম্পূর্ণ তথ্যের মধ্যেও প্রকৌশলীদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তিনি বিভিন্ন বিষয়ের প্রকৌশলীদের মধ্যে সমন্বয়, সফটওয়্যারের নির্ভুল ব্যবহার, নির্মাণকাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন। তার মতে, বিএইটিইর স্বীকৃতি কাঠামো শিক্ষাক্রমের ফলাফল নির্ধারণ এবং জননিরাপত্তা ও অবকাঠামোর মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। তানভীর মনজুরের উপস্থাপনায় বিভিন্ন বিষয়ের প্রকৌশলীদের মধ্যে সমন্বয়, সফটওয়্যারের সঠিকতা যাচাই, নির্মাণকাজের মান নিয়ন্ত্রণ, বিধিমালা অনুসরণ ও ব্যয় বিবেচনার মতো বিষয় উঠে আসে।

সিম্পোজিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, প্রতিবছর উচ্চমাধ্যমিক পাস করা ১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেন। অথচ সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান একই নয়। সরকার এই মান নিশ্চিত করতে এবং আরও বেশি ডিগ্রি প্রোগ্রামকে স্বীকৃতির আওতায় আনতে চায়। তিনি জানান, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএসি) ও বিএইটিইর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে। দিনব্যাপী সিম্পোজিয়ামের দুপুরের আনুষ্ঠানিক পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবছর ১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

বিএসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান জানান, স্বীকৃতি প্রাপ্তি কেবল শুরু, এরপর শিক্ষার মান ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। একইভাবে বিএইটিইর ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শারমিন রেজা চৌধুরী জানান, সরকারি নিয়োগ, পেশাগত নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পাঠদান ও মূল্যায়নে পেশাজীবী প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।