৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি বাজারের বড় বিপর্যয় এখনো বাকি: সতর্কবার্তা কাতারের

Published: October 20, 2026, 4:29 pm

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বর্তমানে যে অস্থিরতা চলছে, তা চূড়ান্ত পর্যায়ের নয় বলে সতর্ক করেছেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। সোমবার দোহায় আয়োজিত গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ ধাক্কাটি এখনো আসা বাকি। আগামী মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকা-েও প্রভাব পড়তে পারে। এতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্যদেশগুলো, পাকিস্তান ও তুরস্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মিত্রদেরও যুক্ত করতে হবে। আল থানি বলেন, আমাদের আস্থা তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কয়েক দশকের বৈরিতার পর ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে গড়ে ওঠা সহযোগিতার উদাহরণ তুলে ধরেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী। কাতারের কাছ থেকে যেভাবে বিমান উপহার পেয়েছিলেন ট্রাম্প। এ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি অন্য অংশীদার দেশগুলোর সামরিক কর্মীরাও অবস্থান করেন।

প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা আল থানি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো তুলে ধরে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা এবং জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের পাল্টা হামলার জেরে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বজুড়ে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বিপুল পরিমাণে সরবরাহ করা হয়। এ হামলা থেকে কাতার শিক্ষা নিয়েছে উল্লেখ করে আল থানি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো অপ্রত্যাশিত হামলা থেকে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মার্চের শুরুতে কাতারের রাস লাফান শিল্প কমপ্লেক্সে ইরানের হামলায় বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আল থানি।

তিনি বলেন, এ ঘটনাটি তাদের বিস্মিত করেছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এসব স্থাপনা মেরামত করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই ঘটনার পর থেকে তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষায়, আমরা কখনোই যোগাযোগ বন্ধ করি না।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ককে আস্থাশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বৈরী পরিবেশ থাকলেও সমুদ্রতলীয় অভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রের মতো অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে সংঘাত কমিয়ে সহাবস্থানের উপায় খুঁজতে হবে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপের ঘোর বিরোধিতা করেছেন তিনি। কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এই নৌপথ নিয়ে যেকোনো ধরনের অনিশ্চয়তা শেষ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করবে। সংঘাত নিরসনে তিনি কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, তবে টেকসই সমাধানের জন্য জিসিসিভুক্ত দেশসমূহ, তুরস্ক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে একটি বিস্তৃত সংলাপের আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, মধ্যস্থতা করার অর্থ এই নয় যে আমাদের পক্ষ থেকে যেকোনো প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত নয়- এমনটা ভাবতে হবে।

প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির বিষয়ে আল থানি বলেন, মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার মানে এই নয় যে কাতার নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় উদাসীন থাকবে। বরং দেশটি বর্তমানে আকাশ প্রতিরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা ও ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি জানান, গত তিন-চার দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যকার সামরিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ফলে ৯০ শতাংশেরও বেশি সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, চলমান উত্তেজনার সময় ইরান এই ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছিল। মার্চের শুরুর দিকে একটি হামলার সময় কাতার নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষার মাধ্যমে ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে দোহা। নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে। যদিও এ নতুন জোটে কোন কোন দেশ থাকছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। আল থানি বলেন, আজ আমি আনন্দের সঙ্গে আরও ঘোষণা করছি, শিগগিরই আমরা একটি নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেব।