৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিডনির নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু বাণিজ্যিক যাত্রা, থাকবে না নৈশকালীন কারফিউ

Published: October 24, 2026, 9:17 pm

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে প্রায় আট দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামীকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে নতুন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ন্যান্সি-বার্ড ওয়ালটন) নামের এই প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশটিতে পাঁচ দশকের বেশি সময় পর সম্পূর্ণ নতুন কোনো বড় বিমানবন্দরের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। সিডনির প্রাণকেন্দ্র থেকে ৪৪ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বিমানবন্দরটি ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। বিশেষ বিষয় হলো, বর্তমান প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত যে নৈশকালীন কারফিউ বলবৎ থাকে, এখানে তা থাকছে না। ফলে রাত বা ভোরেও নিরবচ্ছিন্নভাবে ফ্লাইট ওঠানামা করতে পারবে।

বিমানবন্দরটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার সমান। এছাড়া ফেডারেল ও এনএসডব্লিউ সরকারের মেট্রোরেল ও মোটরওয়েসহ সামগ্রিক অবকাঠামো খাতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকার মতো। প্রথম ধাপে ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার রানওয়ে ও একটি আধুনিক টার্মিনাল নিয়ে যাত্রা শুরু করছে বিমানবন্দরটি, যেখানে বিশ্বের অন্যতম বড় উড়োজাহাজ এয়ারবাস এ৩৮০ অনায়াসে অবতরণ করতে পারবে। এখানে প্রচলিত কোনো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার নেই; পরিবর্তে ডিজিটাল রিমোট প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এই বিমানবন্দর নির্মাণে খরচ হয়েছে ৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা।

প্রকল্পটির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৪৬ সালে লেবার সরকারের আমলে সিডনিতে দ্বিতীয় বিমানবন্দরের ধারণা প্রথমবার আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে ব্যাজেরিস ক্রিকে ১ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হলেও দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কাজ থমকে ছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৪ সালে লিবারেল জোট সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে এখান থেকে মালবাহী কার্গো ফ্লাইট চলাচল শুরু হলেও এখন যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে শুরুতে বাজেট ক্যারিয়ার জেটস্টার অভ্যন্তরীণ রুটে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। সেই সঙ্গে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, এয়ার নিউজিল্যান্ড ও ভিয়েতজেটের মতো আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোও এখানে কার্যক্রম শুরুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ২০২৭ সাল নাগাদ কোয়ান্টাস এবং কাতার এয়ারওয়েজের নিয়মিত ফ্লাইট যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। বছরে এক কোটি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ভবিষ্যতে দ্বিতীয় রানওয়ে ও টার্মিনাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই সক্ষমতা আট কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনির বিশাল প্রবাসী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন এই বিমানবন্দর বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সম্পূর্ণ দ্রুতগতির রেলসংযোগ চালু না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরটিতে যাতায়াতের গণপরিবহন ব্যবস্থা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। যদিও সিডনির ভৌগোলিক কেন্দ্র থেকে দূরত্ব এবং যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি ও বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রস্থল থেকে দূরত্বের বিষয়টি কাটিয়ে পূর্ণ বাণিজ্যিক কার্যকারিতা পেতে কিছুটা সময় লাগলেও এটি পুরো রাজ্য এবং দেশের অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী রূপান্তর ঘটাবে।