১০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বর্ণের বাজারের অস্থিরতা ও ফেড বৈঠকের প্রতীক্ষা

Published: October 26, 2026, 1:37 pm

আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে। সোমবার ২৬ অক্টোবর জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাসের ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিজনিত অস্বস্তি খানিকটা কমায় স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে এই মূল্যবান ধাতুর দর কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার পেছনে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা এবং ফেডের সিদ্ধান্তের প্রতি বিনিয়োগকারীদের সংবেদনশীলতা বড় ভূমিকা পালন করছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই ফেডের মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত আসায় এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। সুদের হারের প্রত্যাশা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির ওপর নির্ভর করেই স্বর্ণের দামের গতিপথ নির্ধারিত হবে।

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ফিউচার ভ্যালু

বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের বিনিময় মূল্য ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০ দশমিক ৫১ ডলারে অবস্থান করছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে এই ধাতুর দাম ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল, যা গত জুনের পর থেকে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতনের রেকর্ড গড়েছিল। এদিকে ডিসেম্বর মাসের সরবরাহের ভিত্তিতে স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারণী প্রভাব

  • বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা মনে করেন, তেলের দাম কমে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ফেডের মুদ্রানীতি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলে এই দরবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।
  • আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক বা পিসিই প্রকাশ করা হবে, যা পরবর্তী মুদ্রানীতি নির্ধারণে ফেডকে দিকনির্দেশনা দেবে।
  • যদিও বর্তমানে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা বেশি, তবুও ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিতর্ক চলমান রয়েছে। সুদহার বাড়লে সাধারণত স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের চাহিদা কমে যায়।

অন্যান্য ধাতুর অবস্থান

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

রুপার দাম স্পট মার্কেটে ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৪ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, প্লাটিনামের বাজারদর ০.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৫৪৮ দশমিক ৩০ ডলার হয়েছে। একই সময়ে প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৪৬ দশমিক ২৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা ও ইয়েমেনের হুথিদের সৌদি আরবে হামলার প্রভাব এখনো সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রেখেছে, যা পরোক্ষভাবে মূল্যবান ধাতুর বাজারে প্রভাব ফেলছে। এর আগের লেনদেনে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল মূল্যবান এই ধাতুর দাম।