১১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কৌশলী অংশীদারত্বে উন্নীত করল বাংলাদেশ ও জাপান

Published: October 27, 2026, 11:06 am

বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা এই দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

বৈঠকের পূর্বসূচনা হিসেবে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে তারেক রহমান পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদানের পর দুই নেতা শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। এই আলোচনার অন্যতম ফলাফল হিসেবে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের অংশীদারিত্বের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়। এর আগে জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানি জনগণের হৃদয়ে বাংলাদেশের জন্য এক বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশগুলোর অন্যতম। গত পাঁচ দশকে জাপানি সহায়তা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে। তিনি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে অংশীদার হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। তারেক রহমান আরও বলেন, আমরা দুই দেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ এবং অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তর করতে চাই। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর সুদৃঢ় হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী এবং বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবসময় জাপান পাশে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্পর্ক দুই দেশের সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। তারেক রহমান জানান, আজকের এই সফর আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরিতে এবং দুই দেশের জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তারা একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা আমাদের জাপানি অংশীদারদের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী ব্যবসায়িক সুযোগ উন্মুক্ত করা যায়।