
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বাড়লেও তাঁদের বেতন বাড়েনি। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা।
শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে পাশের ডিভাইন টেক্সটাইলসহ আরও কয়েকটি কারখানার কর্মীরা এতে যোগ দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। টানা তিন ঘণ্টা অবরোধের ফলে মহাসড়কের ওই অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে। পরে আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চন্দ্রা এলাকায় বসে আছি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় অন্তত ১২টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে। একই দিনে আশুলিয়ার এলাকাতেও পুলিশের সাথে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং সেখানে প্রায় ২৫টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় আশপাশের ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ২৫ কারখানা ছুটি ঘোষণা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে বর্তমান বেতনে জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর ওপর আগের মতো ওভারটাইমের সুযোগ না থাকায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও মৌচাকসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে একই দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। যদিও সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, তবুও শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
রাস্তা অবরোধের বিষয়ে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকার বাসচালক হারুন মিয়া জানান, বৃহস্পতিবারও একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বাস থেকে নেমে হেঁটেই গন্তব্যে রওনা হন। যাত্রী মো. কাদের মিয়া বলেন, জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়া প্রয়োজন। পোশাকশ্রমিকেরা প্রায়ই এভাবে রাস্তা বন্ধ করে রাখলে আমাদের কী হবে?’।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবি দীর্ঘদিনের। তবে তিনি শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন দাবি আদায়ে কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হয়। জানমালের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতেও শ্রমিকদের অনুরোধ করেছেন তিনি।





