২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

Published: November 7, 2026, 8:35 pm

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে দাবিয়ে রাখার জন্য অতীতে যেভাবে ষড়যন্ত্র হয়েছে, এখনও সেভাবে অপতৎপরতা চলছে। শনিবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের মতো এবারও যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। এর আগে দুপুর ১২টা থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে শুরু করেন। ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত এলাকা নেতাকর্মীদের ঢলে জনসমুদ্রে রূপ নেয়, যেখানে দলের শীর্ষ নেতাদের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হয়। আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে দাবিয়ে রাখতে চায়। একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। নেতা-কর্মীদের হাতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আলোকচিত্র সম্বলিত প্ল্যাকার্ড শোভা পায়। আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। আজকে ৭ই নভেম্বরের বিপ্লব র‌্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। প্রধানমন্ত্রী নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আসুন বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকারী মানুষকে নিয়ে আমরা যে কোন ষড়যন্ত্র দেশের ভেতরেই হোক, দেশের বাইরেই হোক, সকল ষড়যন্ত্রের জবাব আমরা এক এক করে দেব। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা শুধুমাত্র স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ছিনিয়ে আনে নাই। দেশের মানুষেরা সেই স্বৈরাচার, সেই ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন।

বিকেল ৩টার দিকে অস্থায়ী মঞ্চে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ ও এজেডএম জাহিদ হোসেন। সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, তারা কি তার সঙ্গে আছেন কি না; তখন বিপুল করতালির মাধ্যমে কর্মীরা তাদের সমর্থনের জানান দেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, ‘দিল্লী নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’ নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে র‌্যালিকে বর্ণাঢ্য রুপ দেন। এই সময়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান।

তারেক রহমান আরও বলেন, ৭ই নভেম্বর হলো জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং বাক-স্বাধীনতার প্রতীক। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে, তা রক্ষায় আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যেভাবে ১৯৭৫ সালে অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ঠিক একইভাবে ৫ই আগস্টের গণআন্দোলনেও তারা পরাজিত হয়েছে। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের ভেতরে বা বাইরে থেকে আসা সব ধরনের ষড়যন্ত্রের জবাব জনগণকে সাথে নিয়ে ধাপে ধাপে দেওয়া হবে। কারো পক্ষে জনগণকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সমাপনী বক্তব্য দেওয়ার লক্ষ্যে বিকেলে সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছান। এর আগে তিনি জনসভা শেষে পদযাত্রা কর্মসূচিতে পায়ে হেঁটে অংশ নেন। তার সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতারা অংশ নেন।