২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে সম্ভাব্য দখলদারত্বের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের দাবি

Published: November 7, 2026, 11:37 am

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে দখলদার হিসেবে অবস্থান নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নাসার একটি কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন।

নিজের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাম্প ইরানের সংঘাতকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি জানান, গত অক্টোবর মাসেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের লড়াইয়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যাকে প্রকৃত অর্থে ‘যুদ্ধ’ বলা চলে। সেই তুলনায় ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাতকে যুদ্ধ বলা যায় না উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, গত কয়েক মাসে সেখানে কেউ আহত পর্যন্ত হয়নি। এ প্রসঙ্গেই তিনি মন্তব্য করেন, আমেরিকা যা করছে তা হয়তো দখলদারত্ব এবং তারা দখলদার হিসেবেও সেখানে অবস্থান করতে পারে।

হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে এই প্রণালি থেকে আমেরিকা সবচেয়ে বেশি পরিমাণ তেল উত্তোলন করছে।

ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে শুরুতে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

পরে অবশ্য তিনি সীমিত পরিসরে হামলার কথা স্বীকার করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তারা সেখানে বড় কোনো যুদ্ধ না চালিয়ে ছোটখাটো সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তাঁর দাবি, কেশম দ্বীপে ইরানি বাহিনী একটি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বসালে মার্কিন সেনারা কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। এর আগেও তিনি এই বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে মার্কিন হামলার কথা নিশ্চিত করে এটিকে পূর্ণমাত্রার সংঘাতের বদলে সীমিত আক্রমণ বলে অভিহিত করেছিলেন। মস্কো ও কিয়েভের মধ্যকার সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘সেটাকেই যুদ্ধ বলা হয়।’।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির দখল নিয়ে ট্রাম্পের দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই বহাল রয়েছে। নিজেদের যাবতীয় শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত এ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক যাতায়াত বা চলাচলের জন্য এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দেশটি।