
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অবিলম্বে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জোর দাবি জানিয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে দলটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ আহ্বান জানায়। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ও ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে বিবৃতিতে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। দলটি জানায়, বাংলাদেশের জনগণের আত্মত্যাগ এবং আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনা বরাবরই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বিকাশ ও এ দেশের জনগণের আত্মত্যাগকে বারবার আঞ্চলিক পরাশক্তি আত্মসাৎ করতে চেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের অকুতোভয় জনগণ কখনো সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান, কখনো জুলাই বিপ্লবের মতো ঐতিহাসিক ঘটনার জন্ম দিয়ে আধিপত্য ও দাসত্বের জিঞ্জির নস্যাৎ করে দিয়েছে।
বিবৃতিতে জিয়াউর রহমানকে সামরিক শাসকদের মধ্যে বিরল ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়, তিনি একদলীয় বাকশালি শাসন ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
এনসিপি অভিযোগ করে, জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীকে গণবিরোধী ফ্যাসিস্ট কাঠামো আদালতের মাধ্যমে বাতিল করে দিয়েছিল। দলটির মতে, বিএনপি ইতিহাস থেকে যথাযথ রাষ্ট্রনৈতিক ও সাংবিধানিক শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা জুলাই সনদের মতো মৌলিক পরিবর্তনের বিষয়টিকে কেবল অষ্টাদশ সংশোধনীর সীমাবদ্ধ গণ্ডিতে আটকে রাখার চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
এনসিপির পক্ষ থেকে বিএনপিকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ক্ষুদ্র কোনো সংশোধনীর মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার অপচেষ্টা থেকে সরে আসার তাগিদ দিয়ে দলটি সতর্ক করে দেয়। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত শক্তির বদৌলতে ক্ষমতায় এসে জনগণের গণরায়কে অস্বীকার করলে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তাই জনগণের রায়কে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনই বর্তমান সময়ের একমাত্র যৌক্তিক পদক্ষেপ।





