৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে ইসরাইলের আগ্রাসী নীতির কড়া সমালোচনা তিন বিশ্বনেতার

Published: September 23, 2026, 6:06 pm

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরাইলের কর্মকাণ্ড ও সম্প্রসারণবাদী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। নিউইয়র্কে আয়োজিত এই অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ইসরাইলের নীতিকে সরাসরি ‘আঞ্চলিক হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দক্ষিণ সিরিয়া সীমান্তে ইসরাইলের বারবার অনুপ্রবেশ, ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বাস্তবতার সৃষ্টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অশনিসংকেত। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তার দেশের উত্তর সীমান্তের নিরাপত্তা এবং পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী নিষ্ক্রিয় থাকলে ইসরাইল আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। একই সাথে তিনি ফিলিস্তিনিদের অধিকার সুরক্ষা, জেরুজালেমের পবিত্র স্থানসমূহের মর্যাদা এবং ইউএনআরডব্লিউএ-এর গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান গাজা ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি আগ্রাসন মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের সম্মিলিত জোরালো চাপের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের পার্শ্ববর্তী আলোচনায় তিনি কাতারের আমিরের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় এরদোয়ান গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসরাইলের অনীহার কঠোর সমালোচনা করেন। বৈঠকে দুই নেতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে আলাপ করেন। বিশেষত আঞ্চলিক সংঘাতের ফলে জ্বালানি ও পরিবহন করিডরে যে প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা উত্তরণে তারা ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি মধ্যপ্রাচ্যে একটি আঞ্চলিক সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, দীর্ঘদিনের অস্থায়ী সমাধান ও কালক্ষেপণ পরিস্থিতিকে কেবল জটিলই করেছে। যেকোনো কার্যকর ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও বিরোধ নিষ্পত্তির শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া বজায় রাখা জরুরি। তিনি বলেন, সংলাপই শান্তি ফেরানোর একমাত্র পথ।

গাজার মানবিক বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে কাতার, জর্ডান ও তুরস্কসহ আটটি আরব ও মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক বিশেষ বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে তারা গাজায় অবিলম্বে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ সুগম করা এবং বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে তাদের অটল অবস্থানের কথা পুনরায় ঘোষণা করা হয়। এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে ইরান যুদ্ধ, পশ্চিম তীর ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বনেতারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বিশেষ করে দক্ষিণ সিরিয়ার পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ইসরাইল বারবার সীমান্ত অতিক্রম করছে, ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে এবং মাটিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিবার চোখ ফিরিয়ে নিলে ইসরাইল আরো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলের বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তা নিষ্ক্রিয়ভাবে মেনে নেবে কি না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে ইসরাইলের অনীহা নিয়ে এরদোয়ান উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংকট সমাধান পিছিয়ে দেওয়া এবং অস্থায়ী নীতির কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গাজা নিয়েও তিন দেশের নেতাদের বক্তব্যে উদ্বেগ উঠে আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার এবং একটি ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।