১২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজেদের সংস্কৃতি বিসর্জন নয়, নির্যাতিত মুসলিমদের পাশে এরদোয়ান

Published: September 26, 2026, 10:35 pm

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সমাবেশে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান প্রবাসে বসবাসরত মুসলিমদের ওপর চলমান সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে মুসলিম সমাজকে কোনোভাবেই তাদের নিজস্ব ভাষা, মৌলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের শেকড় ভুলতে বাধ্য করা যাবে না। মুসলিম সম্প্রদায় স্বাগতিক দেশের মূলধারার সাথে মিশে যেতে বা ইন্টিগ্রেশনে আগ্রহী হলেও, জোরপূর্বক তাদের নিজস্ব পরিচয় মুছে ফেলার যেকোনো অপচেষ্টাকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা নিজেদের পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখে যে দেশে বসবাস করছেন, সেই দেশের মূলধারার সমাজের সাথে স্বাভাবিকভাবে মিশে যাবেন বা অন্তর্ভুক্ত হবেন (ইন্টিগ্রেশন)।

টিএএসসি (TASC) ও বিভিন্ন মুসলিম নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক গথাম হলে অনুষ্ঠিত এই সুধী সমাবেশে এরদোয়ান ইউরোপসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে মুসলিমদের বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মুসলিমদের স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে জোর করে মিলিয়ে ফেলার প্রবণতা বাড়ছে। অথচ নিজ ভাষায় কথা বলা বা ঐতিহ্য চর্চা করা কোনো দেশেই নাগরিক হিসেবে মানিয়ে নেওয়ার পথে বাধা হতে পারে না।

প্রবাসী তুর্কি ও মুসলিমদের অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করার তাগিদ দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত সাফল্য যেন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ না থেকে বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সামাজিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদ, ইসলামবিদ্বেষ ও বিদেশাতঙ্ক মোকাবিলায় প্রবাসী মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেন। শেষে প্রবাসী সব নাগরিককে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান আশ্বাস দেন যে, যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে বিশ্বমঞ্চে ও প্রবাসে বসবাসরত তুর্কি নাগরিকসহ সমস্ত মুসলিম সমাজের পাশে আঙ্কারা সবসময় থাকবে এবং সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। সেখানে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে মুসলমানদের বিদ্যমান সংকটজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান।