১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুর গোপন আবুধাবি সফর: আমিরাতি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক

Published: September 28, 2026, 3:45 pm

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহের সোমবার গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক ঝটিকা সফর করেছেন। এই সময়ে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ব্যক্তিগত বিমানে করে আবুধাবিতে অবতরণ করেন এবং সেখানে মোট চার ঘণ্টা অবস্থান করেন। অবশ্য এই সফরের বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল–১২ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। চ্যানেল–১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহের সোমবারে স্থানীয় সময় দুপুরের কিছুক্ষণ পর ব্যক্তিগত বিমানে করে নেতানিয়াহু আবুধাবির উদ্দেশে রওনা হন। তিনি স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে সেখানে অবতরণ করেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে চার ঘণ্টা অবস্থান করেন। একই সময়ে তিনি কঠিন পুনর্নির্বাচন প্রচারণার মুখোমুখি হয়েছেন।

নেতানিয়াহুর এই সফরের বিষয়টি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল যখন হামাসের হামলা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগেই এমবিজেড নামে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে একটি বড় ধরনের অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। বলা হচ্ছে, এই গোয়েন্দা তথ্য ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছায়নি। যদিও নেতানিয়াহু এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে ওই সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। যুদ্ধের আগে নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় নিয়ে তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ইসরায়েলে চলমান এক বিতর্কের মধ্যেই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধী নেতারা ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যে ব্যর্থতা ছিল, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে যে, তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা করলেও তা রাষ্ট্রীয় নেতাদের পর্যায়ে সরাসরি হয় না। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে এমবিজেড ও নেতানিয়াহুর বৈঠকের খবর অস্বীকার করা হয়েছিল। তবে মে মাসে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে স্বীকার করা হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী গোপনে দেশটিতে সফর করেছিলেন। জানা গেছে, ২৬ মার্চ আল-আইন শহরে দুই নেতার বৈঠক হয়েছিল। সেই সময় বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করা হলেও নেতানিয়াহু তা ফাঁস করে দেওয়ায় আমিরাতি কর্মকর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি করেছিল। বৈঠকটির বিষয়ে অবগত একটি সূত্র সে সময় জানিয়েছিল, ২৬ মার্চ আবুধাবির ওমান সীমান্তবর্তী মরূদ্যান শহর আল-আইনে নেতানিয়াহু ও এমবিজেড বৈঠক করেছিলেন।

উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণ মেলাতেও নেতানিয়াহু এর আগে নিজের সফর নিয়ে কৌশলী ভূমিকা নিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে নাফতালি বেনেতের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের পরিকল্পনা থাকায় নেতানিয়াহু নিজের বৈঠকটি প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষরের পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই দুই দেশ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে চলছে, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গেও তাদের সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।