২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল চীন

Published: November 6, 2026, 10:05 pm

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিরসনে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে চীন। ফের যুদ্ধ বাধলে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে ইরান।

বেইজিংয়ের লক্ষ্য হলো ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের একটি সমাধান খুঁজে বের করা। এর অংশ হিসেবে গত ২ নভেম্বর বেইজিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি সেক্রেটারি আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে আলোচনায় বসেন। বৈঠকে ওয়াং ই স্পষ্ট করেন যে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার বর্তমান বাস্তবতায় সংলাপই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি চীনের সমর্থন পুনরুল্লেখ করে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিকে দায়ী করেন।

একই সময়ে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক বেইজিং সফরে যান। ১৯৭৮ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ওমানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের এটাই প্রথম চীন সফর। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সুলতানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলকে কোনোভাবেই ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র বা মহাশক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার আখড়ায় পরিণত করা উচিত নয়। এ সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘নতুন ঐতিহাসিক সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উভয় দেশই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউএস-ইরান সংঘাতের কারণে এই জলপথে চলাচল সীমিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ওমানের বন্দরগুলো হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত হওয়ায় জ্বালানি পরিবহনে দেশটির ভূমিকা বর্তমানে উভয় পক্ষের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওমানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১৪টি সহযোগিতা চুক্তি ও একটি কারেন্সি সোয়াপ চুক্তি চীনের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে নতুন নিশ্চয়তা প্রদান করবে। দুই দেশই একটি যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচলের আহ্বান জানিয়েছে এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার পরামর্শ দিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে উভয় দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরায় চালু করার আহ্বান জানায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরার নির্দেশ দেয়।

বেইজিং থেকে পর্যবেক্ষকদের মতে, তেহরান চীনের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং অপরিশোধিত তেলের বড় ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে চীনের মধ্যস্থতার ভূমিকা কিছুটা স্থবির ছিল। তবে এখন পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে চীন আবার সক্রিয় হয়েছে। চীনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন শীঘ্রই ইরান, ওমান ও সৌদি আরব সফর করবেন বলে জানা গেছে। এদিকে, চলমান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ২৬টি মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস এবং শত কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। এসব প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে চীনের এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তবে বেইজিং চলমান প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে চায় এবং অগ্রগতির অভাবে তারা ক্রমশ অধৈর্য হয়ে উঠছে। ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস, ক্ষতি শত কোটি ডলারের।