১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই প্রযুক্তির সাথে যেভাবে মানিয়ে নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

Published: October 30, 2026, 7:18 pm

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং দৈনন্দিন জীবন ও ভবিষ্যতের পেশাগত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানের শিক্ষার্থীরা এই প্রযুক্তির সাথে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে একে দক্ষতা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করছেন। ইউটিউবে বিভিন্ন ফ্রি কোর্স পাওয়া যায়। এআইয়ের যুগে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়া মানে প্রযুক্তির সঙ্গে নিজের জ্ঞান, চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলা। তাই এআইয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়; বরং বন্ধুত্ব করে কৌশলে তাকে কাজে লাগাতে চাই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ্‌রিন ইসলাম মনে করেন, এআই পুরোপুরি নির্ভুল নয়, তাই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ে মানুষের বিচারবুদ্ধি অপরিহার্য। কারণ, এআই তথ্য দিতে পারলেও কোনটি প্রয়োজনীয়, তা বোঝে না এবং সব সময় নির্ভুল তথ্যও দেয় না।

তিনি প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং শেখার পাশাপাশি নোটবুকএলএম, পারপ্লেক্সিটি ও জেস্টোরের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গবেষণার সক্ষমতা বাড়াচ্ছেন। পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ, চলচ্চিত্র উৎসবে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে গবেষণার সুযোগ খুঁজছি।

তার মতে, যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও সৃজনশীলতা আগামী দিনে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে। আমার ধারণা, পাঁচ বছর পর যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও সৃজনশীলতার পাশাপাশি এআইভিত্তিক দক্ষতাও আবশ্যক হয়ে উঠবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী নুর হোসাইন এআই টুল ব্যবহার করে স্টোরিবোর্ড তৈরি ও প্রি-ভিজ্যুয়ালাইজেশনের কাজ সহজ করছেন। চ্যাটজিপিটি ও জেমিনাইয়ের মতো টুল ব্যবহার করে তিনি গল্প বলার নতুন কৌশল শিখছেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নৈতিক বিচারবোধ বজায় রাখা জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটে প্রথম অনিক এখন কোথায়।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী মাইশা মুশতাক জানান, কোড লেখার চেয়েও সমস্যা গভীরভাবে অনুধাবন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কোড লিখলে হবে না, সমস্যাকে গভীরভাবে বুঝতে হবে।

তিনি একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে বাস্তব প্রকল্পে এআই টুল ব্যবহার করে কোড বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের অভ্যাস গড়ে তুলছেন। এআই টুল ব্যবহার করে নতুন প্রযুক্তি শেখা, কোড বোঝা ও সমস্যার সমাধান খোঁজার অভ্যাসও গড়ে তুলছি।

তার মতে, দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতাই ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তাসফিয়া তারাননুম প্রযুক্তিগত দক্ষতার সাথে মানবিক গুণাবলির সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, এআই ব্যবহার করতে পারা আর সঠিকভাবে কাজে লাগানোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সাংবাদিকতা ও সৃজনশীল কাজে এআইয়ের কার্যকর ব্যবহারের পাশাপাশি তিনি গবেষণায় দক্ষতা অর্জনে সচেষ্ট। একই সঙ্গে সৃজনশীল শিল্পক্ষেত্রের বিকাশ ঘটতে পারে। সর্বোপরি আমি মনে করি, ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা প্রযুক্তি কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করি, তার ওপর।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত নাফিজ এআইকে শিল্পবিপ্লবের সমতুল্য বাস্তবতা হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে প্রতিদিন নতুন দক্ষতা শিখছেন। পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি নিজেকে আরও পরিণত করার চেষ্টা করছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রাবণ দেবনাথ এআই এজেন্ট এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) নিয়ে গভীর পড়াশোনা করছেন। তার মতে, ভবিষ্যতে আমরা প্রত্যেকে এআই এজেন্টদের নেতৃত্ব দেব। তাই প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, সঠিক ডেটা নির্বাচন এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন এখন সময়ের দাবি।

সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা একমত যে, এআই হয়তো অনেক প্রচলিত পেশার পরিবর্তন ঘটাবে, কিন্তু সৃজনশীলতা ও নৈতিকতা বজায় রেখে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে। আগামী পাঁচ বছরে কাজের ধরন পুরোপুরি বদলে যাবে এবং সেই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে প্রতিনিয়ত শিখতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তির দুনিয়ায় এআই ইতিমধ্যে যে পরিবর্তন এনেছে এবং ভবিষ্যতে আরও যা আনবে, তা আমরা ভালোভাবেই উপলব্ধি করছি।