১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিজভী: ঢাবি যদি অক্সফোর্ড হয়, রাবিকে ক্যামব্রিজ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে

Published: November 1, 2026, 12:09 am

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে একে ‘ক্যামব্রিজ’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি অক্সফোর্ড হিসেবে পরিচিতি পায়, তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কেও সেই উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার মতো সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিরোমন্থন করে রিজভী বলেন, দীর্ঘ সময় পর যেন নিজের বাড়িতে ফেরার অনুভূতি হচ্ছে। ক্যাম্পাসের সবুজ চত্বর ও বিভিন্ন ভবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি আজও তাকে তাড়িত করে। বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি বলেন, কর্মজীবনের ব্যস্ততায় ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক গভীর আবেগ ও আন্তরিকতা কাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার যে গর্ব ও আনন্দ, তা আজও স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় জানার পর ওই শিক্ষার্থী যে আন্তরিকতা ও আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন, তা স্মরণীয়। নিজের গ্রাম কিংবা বাড়ির মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হলে আনন্দ তৈরি হয়। শিক্ষকেরা কে কোন ছাত্রসংগঠন করতেন, তা বিবেচনা না করে শিক্ষার্থীদের স্নেহ করতেন।

নিজের ছাত্ররাজনীতির সময়ের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তখনকার দিনে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও পারস্পরিক সহাবস্থান ও উদারতার চর্চা ছিল। শিক্ষকরাও ছাত্রসংগঠনের পরিচয় নির্বিশেষে সবাইকে স্নেহের চোখে দেখতেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা তখনকার রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বলে তিনি মনে করেন। শিক্ষার্থীরাও রাজনৈতিক সংগঠনের বাইরের সামাজিক সম্পর্কগুলো বজায় রাখতেন।

বিশ্ববিদ্যালয়কে কেবল পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ না রেখে একে একটি প্রাণবন্ত ও গবেষণাবান্ধব শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বরেন্দ্র জাদুঘরের মতো অনেক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম জড়িয়ে আছে, যার সুনাম দেশজুড়ে বিস্তৃত। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তোলা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। বরেন্দ্র জাদুঘরও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির দেশ-বিদেশে সুনাম রয়েছে এবং রাজশাহীতে যাওয়া অনেক অতিথি এটি পরিদর্শন করেন।