
নোয়াখালীতে সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, রাজনৈতিক দলীয়করণ এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অবৈধভাবে সার পাচারের গুরুতর অভিযোগ তুলে পুরো প্রক্রিয়াটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
ইসহাক খন্দকার অভিযোগ করেন, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। যাদের সার ব্যবসার পূর্বঅভিজ্ঞতা নেই, এমনকি নিজস্ব দোকান বা গুদাম নেই, তাদেরও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে অনৈতিক কাজে জড়িত ব্যক্তিদের এই তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। এমনকি কৃষি কর্মকর্তার বাবাকে ডিলারশিপ দেওয়ার মতো অনিয়মের ঘটনাও ঘটেছে। প্রকৃত সার ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হওয়ায় সার সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সার পাচারের বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে নোয়াখালী থেকে ভারতে সার পাচারের নজির রয়েছে। বর্তমানে সেই সার মিয়ানমারে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পাচারের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হতে পারে এবং এর বিনিময়ে মাদকদ্রব্য প্রবেশের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি জানান, ডিলার নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা একে অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছেন। যখন দেশব্যাপী সার সংকটের আশঙ্কা ও কৃষকদের উদ্বেগ বাড়ছে, তখন এ ধরনের অনিয়ম সাধারণ কৃষকদের মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি নোয়াখালীসহ সারা দেশের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার জন্য একটি নির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রকৃত ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা সম্পন্ন ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ প্রদানের জোর দাবি জানান তিনি। কৃষকের স্বার্থ রক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিতরণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।





