১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ চালাতে অতিরিক্ত ৭ হাজার কোটি ইউরো চান জেলেনস্কি

Published: October 16, 2026, 10:07 pm

আগামী বছর রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে অতিরিক্ত ৭ হাজার কোটি ইউরো (প্রায় ৭ হাজার ৯০০ কোটি ডলার) আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার ব্রাসেলসে আয়োজিত ইইউ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় জোটের নেতাদের কাছে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।

সম্মেলনে জেলেনস্কি জানান, আগামী বছর এই যুদ্ধ পরিচালনার জন্য মোট ১৫৫ বিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন হবে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাত, অস্ত্র সরবরাহ ও সার্বিক প্রতিরোধক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ইইউর কাছ থেকে অন্তত ৭০ বিলিয়ন (৭ হাজার কোটি) ইউরো পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই অর্থায়নের চাহিদাকে একটি বাস্তবসম্মত পরিমাণ হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি।

কিয়েভের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী সংস্থা হিসেবে ইইউ বর্তমানে ইউক্রেনকে ৯০ বিলিয়ন ইউরোর একটি ঋণের কিস্তি প্রদান করছে। মূলত ২০২৭ সালের শেষ সময় পর্যন্ত দেশটির অর্থনৈতিক ও সামরিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এই ঋণ বরাদ্দ করা হয়েছিল। কারণ, জব্দ করা সম্পদের অধিকাংশই বেলজিয়ামে রাখা হয়েছে এবং দেশটি এই সম্পদ ব্যবহারের বিরোধিতা করছে। এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী—যেমন যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপান—কে আরও অর্থ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, যাতে ইউক্রেনের অর্থায়নের ঘাটতি পূরণ করা যায়।

এদিকে ইইউ নেতাদের দুই দিনব্যাপী বাজেটবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন শুরুর আগে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ইউক্রেনকে সহায়তার বিষয়ে মতামত দেন। তিনি বলেন, আসন্ন শীতকালজুড়ে ইউক্রেনকে টিকে থাকতে সাহায্য করা এবং পরবর্তী বছরেও তাদের পাশে থাকার জন্য ইইউকে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালাতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় নতুন অর্থসংস্থানের বন্দোবস্ত করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। এটি রাশিয়াকে প্রতিহত করতে আমাদের সাহায্য করবে।

ইউক্রেনের জন্য নতুন এই আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় ইউরোপে আটকে থাকা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ২০০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের সম্পদ ব্যবহার করার দাবিটি পুনরায় সামনে এসেছে। আমি আপনাদের এই সহায়তার অর্থের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাচ্ছি। তবে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের বাজেটে এখনো বড় ধরনের অর্থসংকট দেখা দেবে। কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ডিসেম্বর মাসে এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।