১০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্ধকারের মুখোমুখি: রিপু রজনী

Published: October 19, 2026, 12:05 pm

চট্টগ্রামের ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী এলাকার শ্রীশ্রী সেবা খোলা ও বৈকুণ্ঠধাম মন্দিরে এবারের দুর্গাপূজার আয়োজন ‘রিপু রজনী’ দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মণ্ডপের ভেতরে প্রবেশ করলেই সাধারণ দেবীদর্শনের বাইরে এক গভীর জীবনদর্শনের মুখোমুখি হতে হয়। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য—মানুষের এই ছয়টি রিপু বা অদৃশ্য শত্রুকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয়েছে এবারের পুরো পরিকল্পনা। মণ্ডপের এই শৈল্পিক বিন্যাস মানুষের ভেতরের লড়াই আর আত্মশুদ্ধির চিরন্তন বার্তাকেই নতুন করে ফুটিয়ে তুলেছে। এ এক অন্তর্জগতের দরজা, যেখানে মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রুরা লুকিয়ে থাকে নিজেরই ভেতরে। নামের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে এক গভীর জীবনদর্শন।

পূজামণ্ডপের আলোকসজ্জা ও কাঠামোর মাধ্যমে এটি বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, মানুষের বাইরের অসুর বা শত্রুর চেয়েও নিজের ভেতরের শত্রু অনেক বেশি শক্তিশালী। দেবী দুর্গাকে এখানে কেবল বাহ্যিক অসুর বিনাশকারী হিসেবেই নয়, বরং অন্তরের অন্ধকার দূর করার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বাইরের হিংসা, লোভ ও অহংকারকে পেছনে ফেলে ক্ষমা, বিনয় ও সত্যকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়াই যে প্রকৃত মুক্তি, সে বার্তাই যেন মণ্ডপের প্রতিটি কোণে অনুরণিত হচ্ছে। এদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে মানুষ কখনো জয়ী হয়, কখনো নিজের কাছেই পরাজিত হয়।

এই নান্দনিক ও অর্থবহ আয়োজনের পেছনে কাজ করেছেন একঝাঁক সৃজনশীল মানুষ। মণ্ডপের সামগ্রিক পরিকল্পনা ও সজ্জার দায়িত্বে ছিল ‘অপটিমিস্টিক’। অলংকরণ ও আলোকসজ্জার কাজে ছিলেন নিলয় নন্দী এবং প্রতিমা নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন শিল্পী কার্তিক পাল। এছাড়া পুরো মণ্ডপের নান্দনিক আলোকবিন্যাস সম্পন্ন করেছে ‘কৈলাস লাইটিং’।

পূজা মানে যে কেবল প্রতিমা দর্শন নয়, বরং নিজের ভেতরটাকেও একবার নতুন করে চিনে নেওয়া, এই মণ্ডপ যেন সেই শিক্ষাটাই দেয়। অন্ধকার যত গাঢ়ই হোক, তাকে জয়ের প্রথম পদক্ষেপ হলো নিজের ভেতরের অন্ধকারের অস্তিত্ব স্বীকার করা। এই উপলব্ধির পথ ধরেই ‘রিপু রজনী’ হয়ে উঠেছে এক গভীর আত্মিক ভ্রমণের কেন্দ্রবিন্দু, যা দর্শনার্থীদের মনে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলছে।