
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে প্রথাগত একাডেমিক ডিগ্রির পাশাপাশি অনলাইন সার্টিফিকেটের গুরুত্ব বাড়ছে। গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেনের মতে, নিয়োগদাতারা এখন সনদের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল মার্কেটিং বা ডেটা অ্যানালিস্টের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল ক্ষেত্রে একাডেমিক সিলেবাস অনেক সময় পিছিয়ে পড়ে। এই ঘাটতি পূরণে গুগল, কোর্সেরা কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনলাইন কোর্সগুলো প্রার্থীর প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
ইন্টারভিউ বোর্ডে কেবল সার্টিফিকেটের উৎস দেখা হয় না, বরং প্রার্থী সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কতটা কার্যকর সমাধান দিতে পারেন তা যাচাই করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ভিডিও এডিটিংয়ের কোনো কোর্স করার পাশাপাশি প্রার্থীর যদি নিজস্ব পোর্টফোলিও থাকে, তবে তা নিয়োগকর্তার কাছে অধিক গ্রহণযোগ্যতা পায়। অর্থাৎ, সনদের চেয়েও অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগ এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা সার্টিফিকেটের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করে।
অনলাইন সার্টিফিকেট অর্জনের উদ্যোগ প্রার্থীর ‘স্বাচ্ছন্দ্যে শেখার তাগিদ’ ও শেখার প্রতি আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। একজন প্রার্থী যে পড়াশোনা শেষ করে ঘরে বসে না থেকে নিজের দক্ষতা বাড়াতে সচেষ্ট, এই গুণটি এইচআর ও নিয়োগকর্তাদের কাছে বেশ প্রশংসনীয়। এটি প্রমাণ করে যে প্রার্থী সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে সচেতন।
অনলাইন সার্টিফিকেশন ক্যারিয়ারের পরিধি কেবল দেশের সীমানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখে না। বিশ্বব্যাপী রিমোট বা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই সনদগুলো অত্যন্ত কার্যকরী। বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন। তবে শুধুমাত্র এআই-ভিত্তিক রেডিমেড উত্তরের ওপর নির্ভর না করে বিষয়ের মূল মেকানিজম বা আইডিয়াটি ভালোভাবে বোঝা জরুরি। ইন্টারভিউ বোর্ডে অভিজ্ঞ নিয়োগকর্তারা প্রার্থীর মৌলিক জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি সঠিকভাবে যাচাই করে নিতে পারেন।





