১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এইচএসসিতে সাফল্য পেল কাতারের বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল ও কলেজ

Published: November 1, 2026, 8:03 pm

কাতারের মাটিতে শিক্ষা প্রসারে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য বজায় রেখেছে বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা ৯২.৭৭ শতাংশ পাসের হার অর্জন করে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। এই ঈর্ষণীয় ফলাফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।

পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে মোট ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৭ জন, যেখানে পাসের হার ৯৫ শতাংশ। এই বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে চারজন শিক্ষার্থী। এছাড়া ১৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৪ বা তার বেশি এবং ১৬ জন জিপিএ-৩-এর বেশি পেয়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট ২১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যার পাসের হার ৯১ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যারা জিপিএ-৫ অর্জন করেছে তারা হলো মুহাম্মদ ওয়াদিস সাবা চৌধুরী, ইয়াছিন আরাফাত রাফিও, তাসনিমুল হাসান রাকিন এবং মোঃ তামিম উল্লাহ। দীর্ঘ সময় পর এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রবাসজীবনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের এই অর্জনকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন আহমদ জানান, কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ হযরত আলী খান এবং পরিচালনা পর্ষদের দিকনির্দেশনা এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া কলেজ প্রশাসনের আন্তরিক ব্যবস্থাপনা, অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকদের নিরলস সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। অধ্যক্ষ অর্জনের সঙ্গে জড়িত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিকে কাতারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রবাসে শিক্ষার এই সাফল্য কেবল পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি নতুন প্রজন্মের মাঝে জ্ঞানচর্চা ও নিজস্ব সংস্কৃতির শিকড় ছড়িয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম। বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই কৃতিত্ব প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য একটি গর্বের বিষয়। অভিভাবক ও শিক্ষকরা আশা করছেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামীতে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফলাফল করবে এবং তারা যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।