১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বরিশল’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ-স্মারকলিপি

Published: November 2, 2026, 5:47 pm

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলার এলাকা কেটে আখাউড়ার ‘বরিশল’ ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন উপজেলা গড়ার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জেলাটি। এই প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে সোমবার সকালে চার ইউনিয়নের অধিবাসীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় অভিমুখে এক বিশাল পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভ চলাকালে স্থানীয়রা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কাউতলী মোড় এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং প্রক্রিয়াটি গোপনে রাখা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতলী মোড় ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম রোমা, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং চার ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসক মোং আবু সাঈদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। পরে তারা নতুন উপজেলা গঠনের এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

বিক্ষোভের সময় আয়োজিত সমাবেশে দাবি করা হয়, জেলা বিএনপি নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার চক্রান্তেই সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব ও বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়ন বিচ্ছিন্ন করে ‘বরিশল’ নামে নতুন প্রশাসনিক এলাকা গড়ার প্রক্রিয়া চলছে। তারই অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগ বিষয়টি সরজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠালেও জেলা প্রশাসন তা আড়াল করেছিল।

বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারা কোনো অবস্থাতেই সদর উপজেলা থেকে আলাদা হতে রাজি নন। এই বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে না এলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধসহ পুরো জেলাকে অচল করে দেওয়ার মতো কড়া কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় সমাবেশ থেকে। বক্তারা আরো হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি সদর ও বিজয়নগর উপজেলা ভেঙে নতুন উপজেলা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা না হয়, তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলপথ ও সড়কপথ অবরোধসহ আরও কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে পুরো জেলাকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হব।