১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে

Published: November 4, 2026, 11:05 am

যুক্তরাষ্ট্রের চলমান মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ বা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। দেশটির সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২১৮টি আসনে জয়ী হতে চলেছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংখ্যা। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা অন্তত ১৬০টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে চার বছর পর আবারও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে ফিরছে। বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে যাচ্ছে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ।

নির্বাচনের পর থেকেই চলছে ভোট গণনা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ২১৯টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ছিল ২১৪টি; এর মধ্যে দুটি আসন ছিল শূন্য। এবার এই সমীকরণ উল্টে যেতে শুরু করেছে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ এখনো অনিশ্চিত।

বর্তমানে ১০০ আসনের এই কক্ষটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়াতে হবে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসন কেড়ে নিয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন, আর সাউথ ক্যারোলাইনায় জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। তবে আলাস্কা, আইওয়া, মিশিগান, মেইন, ওহাইও ও টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর চূড়ান্ত ফলের ওপর সিনেটের ভাগ্য নির্ভর করছে। উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র সদস্যদের আসন ছিল ৪৭টি।

নির্বাচনী বুথফেরত জরিপের তথ্য বলছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ এই ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক ভোটার জানিয়েছেন, তারা ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশের উপায় হিসেবে এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এছাড়া প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার জানিয়েছেন, বর্তমান দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তারা ক্ষুব্ধ অথবা অসন্তুষ্ট। ভোটারদের ৭০ শতাংশই মনে করেন, কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর অধিকতর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ফলে ডেমোক্র্যাটরা আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি কমিটির নেতৃত্ব এবং সরকারি কার্যক্রমের ওপর নজরদারিতে বিশেষ সুযোগ পাবে। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করার ক্ষমতাও তাদের হাতে আসবে।

অন্যদিকে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে পারলে ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট মনোনীত বিচারকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদগুলোতে নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। এটি ট্রাম্পের শাসনামলের বাকি দুই বছরের জন্য হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল শুধুমাত্র বর্তমান মেয়াদের রাজনীতি নয়, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত অবস্থান দলটির জন্য সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে বড় সুযোগ তৈরি করেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অবশিষ্ট সময়ের প্রতিটি পদক্ষেপে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।