
কুমিল্লায় ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নামের এক কিশোরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পেছনে আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্য কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। রোববার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সংক্রান্ত প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরেন। কুবি বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিমের লাশ শনিবার দুপুরে ক্যাম্পাসসংলগ্ন লালমাই সানন্দা পাহাড়ি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। মাত্র ১৩ বছর বয়সি অপ্রতিমকে বন্ধু ভেবে বিশ্বাস করার কারণেই সে খুনিদের প্ররোচনায় পাহাড়ের দিকে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই দফা জানাজার নামাজের পর অপ্রতিমকে সমাহিত করা হয়েছে। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগমারা কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদে প্রথম জানাজা এবং পরে বাগমারা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনদের অংশগ্রহণে এক শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়। অপ্রতিমের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও পরিচিত মহলে তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানাজা শেষে অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার সন্তানের হত্যার বিচারের দাবি জানান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যাদের সাথে অপ্রতিম পাহাড়ে গিয়েছিল, তাদের সে আপন বন্ধু ভেবে বিশ্বাস করেছিল। সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ঘাতকরা তার সন্তানকে হত্যা করেছে। সামান্য একটি মোবাইল ফোনের জন্য একটি নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে প্রাণ দিতে হবে, তা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
সন্তানহারা পিতা জানান, এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তবে তিনি দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার এবং কঠোর বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। অপ্রতিমের মতো এমন মেধাবী শিশুর এমন করুণ পরিণতি যেন আর কাউকে না ভোগাতে হয়, সেই প্রত্যাশাই এখন সকলের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমার মাত্র ১৩ বছর বয়সি নিষ্পাপ ছেলেটা তো কোনো অপরাধ করেনি; তবে কেন তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই মুহূর্তে আমি শুধু ঘাতকদের কঠোর বিচার চাই।





