
পুঁজিবাজারে প্রতারণার শিকার হওয়া পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসের ১৭ হাজার ৯২৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। মঙ্গলবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল বা আইপিএফ থেকে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই তাদের বিনিয়োগ করা পুরো টাকা ফেরত পাবেন।
প্রতারণার শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মশিউর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, বাঙ্কো সিকিউরিটিজ এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর আগে ডিএসই ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর যৌথ উদ্যোগে ইতিমধ্যে ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা আইপিএফ থেকে পরিশোধ করা হবে। এতে মোট ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীর ৭২ কোটি টাকার পাওনা শতভাগ পরিশোধ নিশ্চিত হবে।
তহবিল থেকে অর্থ বিতরণের সময়সূচি সম্পর্কে ডিএসই জানায়, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে মশিউর সিকিউরিটিজের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে অন্য চার প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের পাওনা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে দেওয়া হবে। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং আইপিএফ চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আইপিএফ চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম উল্লেখ করেন, এই অর্থ প্রদান কোনো অনুদান বা দয়া নয়, বরং আইনি যাচাই-বাছাইয়ের পর দাবি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। যেখানে অবিচার থাকে, সেখানে প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম একে পুঁজিবাজারের জন্য এক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, অনেকে সঞ্চয় বা পেনশনের টাকা এসব হাউসে বিনিয়োগ করে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। ডিএসইর এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা ফেরাতে সহায়তা করবে। ডিএসইর এই সুরক্ষা তহবিল ব্রোকারেজ হাউজগুলোর দেওয়া ট্রেড কমিশনের একটি অংশ থেকে গঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাজারের উন্নয়নে নতুন কিছু পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। বন্ড লিস্টিং ফি উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর কথা জানিয়ে মমিনুল ইসলাম বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ডিরেক্ট লিস্টিং বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য আবেদন করবে, তাদের লিস্টিং ফি-তে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে সরকারি, বহুজাতিক বা স্থানীয় অন্তত ১০টি ব্লু চিপ কোম্পানিকে বাজারে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ডিএসই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন ডিএসই অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্তমানে ব্রোকারেজ হাউজগুলো প্রতি ছয় মাস পরপর তাদের ট্রেড কমিশনের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়মিতভাবে এই তহবিলে জমা দিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটি কোনো অনুদান, দয়া বা আনুতোষিক পেমেন্ট নয়, বরং আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করা দাবিগুলোর বিপরীতে সেটেলমেন্ট প্রদান।





