
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইরানি বার্তাসংস্থা ইলনা স্থানীয় সময় বুধবার এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বৈঠকটির প্রকাশিত একটি স্থিরচিত্রে দেখা যায়, সংক্ষিপ্ত পরিসরের এই আয়োজনে দুই নেতা আলোচনায় মগ্ন রয়েছেন। তবে এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট কী ধরনের আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই জাতিসংঘের এই অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। অধিবেশনের এক ফাঁকে তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার বাংলাদেশ সময় দেওয়া ভাষণে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেন। পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে, অথচ বাস্তবে ইরান নিজেই দীর্ঘ সময় ধরে সন্ত্রাসবাদের শিকার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির কড়া জবাব দিয়েছেন পেজেশকিয়ান। ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যদি কোনো নতুন চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে দেশটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। এই হুমকির জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট বিশ্বনেতাদের সামনে স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা, বর্ধিত চাপ কিংবা গুণ্ডামির কাছে মাথা নত করবে না ইরান। বরং এই পরিস্থিতির মুখে ইরানের প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের নতুন চুক্তি করতে হলে অবশ্যই দেশটিকে প্রথমেই নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আঞ্চলিক অন্য সব রাষ্ট্র এই পথ থেকে সুবিধা ভোগ করবে, আর ইরানকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তার ভাষ্যমতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিচ্ছে, অন্যদিকে তারাই মূলত ইরানের ওপর অন্যায্য ও অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৈঠকের একটি ছবিও প্রকাশ করেছে তারা।





