
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের ঘটনায় পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো চরম পক্ষপাতিত্ব দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী। মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজনে ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব গণমাধ্যম: নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রাষ্ট্রদূতের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা শক্তি যখন বিশ্বের কোথাও সামরিক অভিযান চালায়, তখন তারা পরিকল্পিতভাবে ‘মিডিয়া যুদ্ধ’ বা প্রচারণাকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগায়। তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো ফিলিস্তিন ও গাজার নির্যাতিত এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিত্রিত করছে। অন্যদিকে, হাজার হাজার মানুষ হত্যাকারী ইসরায়েলি বাহিনীকে তারা ‘গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার রক্ষক’ হিসেবে উপস্থাপন করে বিশ্ববাসীর কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। এই বয়ানকে তিনি অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন। পশ্চিমাদের এই যুদ্ধের বয়ান বা ন্যারেটিভ সম্পূর্ণ অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্ট।’।
স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব ও নৈতিকতা নিয়ে আলোচনায় রাষ্ট্রদূত বলেন, সংঘাতের মুহূর্তে সংবাদমাধ্যমের উচিত কোনো পক্ষের হয়ে কাজ না করে বরং সত্য, ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক আইনের মূলনীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়া। তিনি যুদ্ধ আইনের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন যে, হাসপাতাল, বিদ্যালয়, নারী, শিশু কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কতটা বৈধ, তা গণমাধ্যমের সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের কর্মকাণ্ড আড়াল করতে পশ্চিমা গণমাধ্যমের একটি অংশ যেভাবে কাজ করছে, তার সমালোচনা করে তিনি নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার আহ্বান জানান।
বিশ্বের স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ইরানে এসে স্বচক্ষে দেখুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সেখানে মানবতাবিরোধী কী ধরনের অপরাধ করেছে। বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভবিষ্যতে অটুট থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস। আয়োজনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। এছাড়াও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক ও আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ ইহসানুল কবীরসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।





