
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে তৈরিপোশাক কারখানার শ্রমিকদের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যা স্থায়ী হয় দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত। শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থল থেকে প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা এ বি এম খায়রুল কবির বেলা ১১টার কিছু আগে জানান, গেট বন্ধ হওয়ায় তিনি ওই স্টেশনে ঢুকতে পারেননি। পরে কাজীপাড়া স্টেশনে গিয়ে মেট্রোতে ওঠেন। গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ বক্সে আগুন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ বারবার আন্দোলনরত শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে যেতে আহ্বান জানায়।
একপর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে এরপরও বিভিন্ন দিক থেকে শ্রমিকরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন, যা উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় রূপ নেয়।
সকাল ৮টার দিকে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকদের এই সড়ক অবরোধের কারণে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির কারণে মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের গেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে অনেক যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল।
এর আগে শনিবারও একই দাবিতে শ্রমিকরা মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় সেদিন মিরপুর-১ নম্বরের শাহ আলী এলাকায় কয়েকটি মার্কেট ও কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এছাড়া কালশী এলাকায় একটি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপের তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, আজই মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে। গতকাল রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে আয়োজিত এক বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী শ্রমিকদের এই পরিস্থিতিতে আর আন্দোলনে না থাকার আহ্বান জানান।





