১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যালন ডি’অরে ভোট দেওয়ার হিসাব প্রকাশ, ব্যবধান মাত্র ২৮ পয়েন্টের

Published: October 31, 2026, 7:24 pm

ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছেন হ্যারি কেইন। পুরস্কারের ৭০ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বনিম্ন ব্যবধানের জয় হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। সম্প্রতি ভোটের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশের মাধ্যমে এই রোমাঞ্চকর তথ্যাবলি সামনে এসেছে। হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ১০০টি দেশের সাংবাদিকদের মধ্যে ৪০ জন বিচারক ইংলিশ স্ট্রাইকার কেইনকে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ফলে তাঁর মোট অর্জিত পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৫-তে। অন্যদিকে ২৩টি দেশের প্রতিনিধিদের প্রথম পছন্দের স্থান পেয়ে ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ফরাসি তারকা এমবাপ্পে। ভোটের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের পর জানা গেছে, ১০০ দেশের সাংবাদিকের মধ্যে ৪০ জনের প্রথম পছন্দ ছিলেন কেইন। দ্বিতীয় হওয়া এমবাপ্পের ঝুলিতে জমা পড়েছে ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট; ২৩ দেশের সাংবাদিক তাঁকে রেখেছেন প্রথম স্থানে।

তালিকায় ৮৮১ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন বার্সেলোনার তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল, যাকে ১৩টি দেশের প্রতিনিধিরা তালিকার শীর্ষে রেখেছিলেন। তাঁর চেয়ে ১৫৫ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে ৭২৬ পয়েন্ট অর্জন করে চতুর্থ হয়েছেন রদ্রি, যাকে সেরা হিসেবে ভোট দিয়েছেন ১০টি দেশের প্রতিনিধি। অপরদিকে ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি মোট ছয়টি দেশ—ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পানামা, বেলারুশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীন থেকে প্রথম স্থানসূচক সমর্থন পেয়ে পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন।

প্রকাশিত ভোটের পরিসংখ্যানে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য দেখা গেছে। বিজয়ী হ্যারি কেইনকে কেবল মেক্সিকো ও আইভরি কোস্টের প্রতিনিধিরা তাদের সেরা দশের তালিকায় রাখেননি। এমবাপ্পেকে সেরা ১০ থেকে বাদ দিয়েছেন গ্রিস, স্কটল্যান্ড ও ইউক্রেনের ভোটাররা। আবার বেলারুশ, ক্যামেরুন, ক্রোয়েশিয়া ও গ্রিসের সাংবাদিকদের দেওয়া সেরা দশের তালিকায় জায়গা পাননি ইয়ামাল। গতবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী উসমান দেম্বেলে এবার সপ্তম স্থান পেলেও কোনো দেশের ভোটেই প্রথম হতে পারেননি, যদিও সাতটি দেশ তাঁকে দ্বিতীয় স্থানে রেখেছে। আর্লিং হলান্ডও এবার কোনো দেশের সাংবাদিকের কাছ থেকে প্রথম স্থানসূচক ভোট পাননি।

নারী ফুটবলের ক্যাটাগরিতে বার্সেলোনার প্রাক্তন সতীর্থ ইভা পাযোরকে ৮৬ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ব্যালন ডি’অর উঁচিয়ে ধরেছেন অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। মোট ৫০ জন বিচারকের মধ্যে ২৮ জনের প্রথম পছন্দ হিসেবে পুতেয়াস পান ৬১৮ পয়েন্ট, আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পাযোর অর্জন করেন ৫৩২ পয়েন্ট। এছাড়া ৩৪৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে এ বিভাগে তৃতীয় অবস্থান নিশ্চিত করেছেন খাদিজা শ।

২০২২ সাল থেকে চালু হওয়া নীতি অনুযায়ী, জাতীয় দলের সামগ্রিক অবদানের বদলে নির্দিষ্ট একটি মৌসুমের স্বতন্ত্র পারফরম্যান্সকে প্রাধান্য দিয়ে সাংবাদিকরা তাঁদের মতামত প্রকাশ করেন। এই প্রক্রিয়ায় প্রথম পছন্দের খেলোয়াড় পান ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী পান ১২ পয়েন্ট এবং তৃতীয় পছন্দের ফুটবলার পান ১০ পয়েন্ট। এভাবে শীর্ষ দশের প্রাপ্ত সব পয়েন্ট একত্রিত করে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম নির্ধারিত হয়। ফলে কেবল সর্বাধিক প্রথম স্থান পাওয়া নয়, বরং প্রতিটি স্তরের মোট পয়েন্টের যোগফলই ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করে দেয়। ২০২২ সাল থেকে চালু থাকা নিয়মে জাতীয় দলের বদলে মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনায় ভোট দেন সাংবাদিকেরা।